এবার কি বিগড়ে গেলেন অনুব্রত!ভাইপোর নামে ক্ষোভ অনুব্রত অনুগামীর

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : প্রতিদিনই তৃণমূলের (trinamool congress) অভ্যন্তরের বিদ্রোহে নতুন নতুন নেতার নাম উঠে আসছে। এবার সেই তালিকা জুড়ে গেল অনুব্রত মণ্ডলের (anubrata mondal) অনুগামীর নামও। ওই নেতার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি দলবিরোধী ফেসবুক পোস্টও করা হয়। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা মুছে ফেলা হয়।

ভাইপোর নামে ক্ষোভ অনুব্রত অনুগামীর

বীরভূম জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টে ‘ভাইপো’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে। সেই ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছিল, অহংকার পতনের কারণ, মানুষকে মানুষের সম্মান দিতে হবে, রাজনীতি পরে, ভাইপোকে পিছনের সারিতে রাখতে হবে। এই পোস্ট দেখার পরেই জল্পনা শুরু হয়ে যায়। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা মুছে দেওয়া হয়।

পোস্ট নিয়ে ব্যাখ্যা

সুদীপ্ত ঘোষ এই পোস্ট নিয়ে বলেছেন, তিনি এই পোস্ট করেননি, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য কেউ পোস্ট করেছিল। বিষয়টি চোখে পড়তেই তিনি তা ডিলিট করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ক্ষুব্ধ সুদীপ্ত ঘোষ

ফেসবুক পোস্টটি মুছে দিলেও, দলের বিরুদ্ধে তিনি যে ক্ষুব্ধ তা তাঁর কথাতেই পরিষ্কার। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে দল ছেড়ে দেবেন, কিন্তু অন্য কোনও দলে যাবেন না।

জেলায় অনুব্রত অনুগামী বলেই পরিচিত সুদীপ্ত ঘোষ

বীরভূম জেলায় অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামী বলেই পরিচিত সুদীপ্ত ঘোষ। অনুব্রত মণ্ডলের পাশেই দেখা যেত তাঁকে। বোলপুরে অনুব্রত মণ্ডলের দলীয় কার্যালয়ে দেখা যেত তাঁকে। কিন্তু গত বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। দলে গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি জেলা তৃণমূলের সহ সম্পাদক। এর আগে জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি জেলার স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সব সভাপতি রয়েছেন।

অনুব্রত গড়ে বিদ্রোহ

এর আগে অনুব্রত গড়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন গুসকরা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি বলেছেন, অনুব্রত মণ্ডলকে লক্ষ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছিলাম। কিন্তু টাকা ফেরত চাইতেই ১৩ দিন হেফাজতে থাকতে হয়েছে। সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মঙ্গলকোটের কোটের বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তিনি বলেছিলেন সময়ের পরিবর্তন হচ্ছে। মঙ্গলকোটে তাঁকে সভা করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছিলেন। পাশাপাশি বলেছিলেন, অনুব্রত মণ্ডল কীভাবে ভোট করেছিলেন তা সবাই জানে। তবে তিনি তা চান না। বীরভূমের গরম হাওয়া এনে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটকে গরম করবেন না, বলেছিলেন সিদ্দিকুল্লা। পাশাপাশি অনুব্রতর হাত থেকে মঙ্গলকোট, কেতুগ্রাম এবং আউশগ্রামের দায়িত্ব নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করেছিলেন তিনি।