মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না জানিয়ে দিল পর্ষদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১ জুন থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। স্কুলশিক্ষা দপ্তরকে এ কথা জানিয়েছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের কারণে বর্তমানে রাজ্যে বন্ধ লোকাল ট্রেন, সরকারি অফিসে হাজিরা ৫০ শতাংশ।

এই পরিস্থিতিতে উত্তরপত্র এবং অন্যান্য জরুরি নথি পাঠানো, কেন্দ্রগুলিতে সরকারি আধিকারিকদের মোতায়েন করা কার্যত অসম্ভব। সেই কারণেই পরীক্ষা পিছনো বা স্থগিতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে পর্ষদ। মঙ্গলবার কল্যাণময়বাবু সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘নির্ধারিত সময় মাধ্যমিক নেওয়া সম্ভব নয়। পরীক্ষা পিছবে নাকি পুরোপুরি বাতিল হবে, সেটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরও জানা যাচ্ছে, মাধ্যমিক যদি নির্ধারিত সূচি মেনে না হয়, সেক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক পিছতেই হবে। ফলে দু’টি পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

করোনা আবহে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকও হোম সেন্টার অর্থাৎ পড়ুয়াদের নিজের স্কুলে হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত এপ্রিল মাস থেকেই মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়েছে পরীক্ষার্থীদের একাংশ।

পড়ুয়াদের দাবি একটাই—কেন্দ্রীয় বোর্ডগুলির মতো পরীক্ষা বাতিল করুক রাজ্য সরকারও। কারণ, এই মুহূর্তে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার মানসিকতা বা পরিস্থিতি নেই। অনেকে এটাও লেখে যে, তাদের বয়স ১৮ বছরের কম। ফলে এখন টিকা পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। তাই সরকার এই পরীক্ষার নামে যেন তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে না দেয়। যদিও ভোটপর্ব শেষ না করে সরকার কোনও সিদ্ধান্তে আসতে চায়নি। নির্বাচন মিটেছে। বদল হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীও। নতুন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে শপথ নিয়েছেন।

এই অবস্থায় পর্ষদ সভাপতির সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিবৃতি দিতে না চাইলেও ব্যক্তিগতভাবে ফোনে তিনি স্বীকার করেছেন পর্ষদের অপারগতার কথা। এদিন বিকেলে তিনি বিকাশ ভবনে যান। সেখানে শিক্ষাদপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকও হয়। তবে রাত পর্যন্ত এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

শিক্ষক সংগঠনগুলিও চাইছে মাধ্যমিক নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে আসুক রাজ্য সরকার। যদিও, পরীক্ষা বাতিল করার পক্ষপাতী নয় তারা। মঙ্গলবার সকালেই শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে ইমেলে চিঠি পাঠায় পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতি। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক—দু’টি পরীক্ষাই যাতে অন্তত এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়, চিঠিতে সেব্যাপারে আবেদন জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর্মকার। তার কপি পাঠানো হয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে।

শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ-এর তরফে অনিমেষ হালদার এদিন জানান, ‘মাধ্যমিক পরীক্ষা পুরোপুরি বাতিল হোক, এটা আমরা কোনওভাবেই চাই না। পর্ষদের উচিত সমস্ত শিক্ষক সংগঠনের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া। পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া, হোম সেন্টারে পরীক্ষা নেওয়া, অবজেক্টিভ টাইপের প্রশ্ন বাড়িয়ে পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনা ইত্যাদি সম্ভাবনাগুলো নিয়ে আমরা রাতে রাজ্য কমিটির মিটিংয়ে বসছি। আগামী কাল সমিতির সম্পূর্ণ অবস্থান মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও শিক্ষাদপ্তরকে জানিয়ে চিঠি দেওয়া হবে।’ অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনও হোম সেন্টারে মাধ্যমিক নেওয়ার পক্ষপাতী।

কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলেন, দশম শ্রেণিতে ওঠার পর থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা কোনও পরীক্ষায় বসেনি। এই অবস্থায় পরীক্ষা না নিয়ে মার্কশিট দেওয়া বাস্তবসম্মত কাজও হবে না। বরং হোম সেন্টারে পরীক্ষা নিয়ে, সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের দিয়েই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করিয়ে ফল প্রকাশ করুক পর্ষদ।