৫ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে তৃণমূল সাংসদ তথা সর্বভারতীয় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তৃণমূলের হেভি ওয়েট নেতা তথা বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী ঘাসফুল শিবির ছেড়ে হাত ধরেছে পদ্মফুল শিবিরের । ইতিমধ্যেই শিলিগুড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা শুভেন্দু অধিকারীর পথ চেয়ে বসে আছেন।

অনুগামীরা জানিয়েছেন জানুয়ারিতে শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। তখন দলে দলে বিজেপিতে যোগদান পর্ব শুরু হবে শুভেন্দুর হাত ধরে। তার আগে ঘর গোছাতে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূলও। শিলিগুড়িতে এমনিতেই তৃণমূলের আশানুরূপ ফল হয় নি। গত বিধানসভা নির্বাচন হোক বা পুরসভা, মহকুমা পরিষদ কিংবা লোকসভা নির্বাচন।

সব নির্বাচনেই তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। এমতাবস্থায় “বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সুচাগ্র মেদিনী” মনোভাব তৃণমূলের। শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের তৃণমূল যুবাদের এক সুতোয় গেথে রাখতে নতুন বছর শুরু হতেই আর কাল বিলম্ব না করে সোমবার থেকে পাঁচ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে এলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে।

এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ শিলিগুড়ির বাগডোগরা এয়ারপোর্টে তিনি অবতরণ করেন। বাগডোগরাতে তাকে স্বাগত জানাতে যায় শিলিগুড়ির যুব তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। বিমান থেকে নেমে এয়ারপোর্টে অভিষেক ও পিকে কেউই সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেন নি। দলীয় কর্মীরাও অভিষেকের মনোবল বৃদ্ধি করতে স্লোগান দিতে থাকে, “দাদা তুমি এগিয়ে চলো, আমরা তোমার সামনে আছি।” সেখান থেকে তিনি সোজা চলে আসেন শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়ির বিলাসবহুল হোটেলে।

এখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর ফুলবাড়ির উত্তরকন্যায় দলীয় কর্মীদের সাথে সাংগঠনিক বৈঠক করেন অভিষেক ও পিকে। প্রথম দফায় বৈঠক হয় শিলিগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত নেতৃত্বদের সাথে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং জেলা তৃণমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা সহ যুব তৃণমূল নেতৃত্ব । উপস্থিত ছিলেম পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। এদিন দফায় দফায় বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকের কথা রয়েছে পাহাড়ের নেতৃত্বদের সাথেও। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি শহরকে অভিষেক ব্যানার্জির বড় বড় পোস্টার ব্যানারে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

পুলিশি তৎপরতাও রয়েছে তুঙ্গে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি (সমতল) রঞ্জন সরকার বলেন, “আমাদের সর্বভারতীয় যুব সভাপতি এসেছেন। সম্পুর্নটাই আমাদের সাংগঠনিক বৈঠক। আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচী এবং কিভাবে দল চলবে সবটাই আলোচনা হবে। সর্বভারতীয় সভাপতি যেভাবে আমাদের নির্দেশ দেবেন সেভাবেই আমরা চলব। পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, “নির্বাচন আসছে। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলই তাদের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা রাজ্যের শাসক দল আমাদের রাজনৈতিক বিষয়, রণকৌশল ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হবে।”