কেন্দ্রের গাইডলাইন ভেঙে ভ্যাকসিন নিলেন তৃণমূলের বিধায়করা

বর্ধমান,১৭জানুয়ারিঃ করোনা ভ্যাকসিনের টিকাকরণের সূচনার দিনই কেন্দ্রের ঘোষিত গাইডলাইন ভেঙে টিকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল রাজ্যের দুই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

একেবারে প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের ভ্যাকসিন নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্যদের নামে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা করোনা টিকা নিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের দুজন বিধায়ক ও একজন প্রাক্তন বিধায়ক এদিন করোনা টিকা নিয়েছেন। ভ্যাকসিন নিয়েছেন কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল। ভাতারেরই শাসক দলের প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরার বিরুদ্ধেও ভ্যাকসিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই নিয়ে তোপ দেগেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “যাঁদের এখন করোনা ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত না তাঁরা ভ্যাকসিন নিচ্ছেন। রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্যদের পাওয়ার কথা নয়। এসব কমিটিতে বহু লোক থাকেন। যদি তাঁরা পেয়েও থাকেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলবেন, এঁদের কী লিস্টে নাম ছিল? কম তো পড়বেই।”বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, কেন বিধায়করা পাবেন? সরকারকে এর জবাব দিতে হবে, এঁদের তো পাওয়া যাবে না। এটা অন্যায়, দুর্নীতির রাজ্যে আমরা বাস করছি, এটাই প্রমাণ করছে এ ঘটনা, বলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

ভারত সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মাবলী অনুসারে প্রথম দফায় ভ্যাকসিন নেবেন কেবলমাত্র কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরাই। শুধু তাই নয়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় অনুরোধ করেছিলেন, জনপ্রতিনিধিরা যেন নিয়ম ভেঙে স্বাস্থ্যকর্মীদের আগে টিকা না নেন। কিন্তু তারপরও তৃণমূলের বিধায়করা ভ্যাকসিন নেওয়ায় কী করে এটা হল, সেই প্রশ্ন উঠছে। যদিও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উড়িয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “বিজেপি শুধু অভিযোগ করেই থাকে। আমাদের জেলার একাধিক নেতৃত্ব করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা টিকা নিয়ে স্বজনপোষণের কোনও ব্যাপারই নেই।”

ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল, কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, ভাতারে প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরার করোনা টিকা নেওয়া প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় বলেন, “রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্যরাও সরাসরি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা কোনও না কোনও হাসপাতালে পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাই তাঁরা তালিকায় রয়েছেন।”রবীন্দ্রনাথবাবু অবশ্য সাফাইয়ের সুরে বলেছেন, আমাকে রাজ্য সরকার ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা বলে ঘোষণা করেছে। বিধায়ক নয়, পুর প্রশাসক হিসেবে নিয়েছি। সাধারণ মানুষ যাতে ভয় না পান, সেজন্য টিকা নিয়েছেন বলেও যুক্তি খাড়া করেন তিনি।

দলীয় বিধায়করা টিকা নিয়ে যে ঠিক করেননি, তা স্বীকার করে নিয়েছে তৃণমূল। পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, নেওয়ার কথা নয়, নিয়ে থাকলে ভুল করেছেন। ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা পাবেন।