তৃণমূলের ব্যাটন কার হাতে, মমতা না অভিষেক! মুখ খুললেন প্রশান্ত কিশোর

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো :২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে কোনা পাতলেই শোনা যাচ্ছিল- তৃণমূল এখন চলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর প্রশান্ত কিশোরের কথায়।

তাঁরাই এখন তৃণমূলের সুপিরিয়র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এখন তৃণমূলের ব্যাটন নেই। ভোটের মাঝপথে এ বিষয়ে মুখ খুলে জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের শেষ কথা কে।

শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার আগে খোলাখুলি বলেছিলেন, যতদিন তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর সুব্রত বক্সিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, ততদিন ঠিক ছিল।

কিন্তু তৃণমূলের ব্যাটন অভিষেক আর পিকের হাতে উঠতেই সব শেষ। এই তৃণমূলে আর থাকা যায় না। এরপরই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল ছেড়ে।

শুধু শুভেন্দু অধিকারী নয়, অভিষেক-পিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে দল ছেড়েছিলন অনেক নেতাই। তার মধ্যে থাকবেন মিহির গোস্বামী, শীলভদ্র দত্তের মতো অনেক নেতাই। মোট কথা ভোটের আগে তৃণমূল ছাড়ার একটা পন্থাই হয়ে গিয়েছিল অভিষেক-পিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ। কখনও অভিষেক, কখনও পিকেকে শিখণ্ডি করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে পাড়ি দিয়েছেন নেতা-নেত্রীরা।

কিন্তু প্রার্থীর মনোনয়ন থেকে ভোট পরিচালনা সব কিছুতেই দেখা গিয়েছে তৃণমূলের ব্যাটন রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরামর্শ নিয়েছেন অভিষেক বা পিকের। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিজে। তিনি নিজের মতো করেই একুশের বিধানসভার সৈনিক সাজিয়েছেন। যুব সংগঠনের পাশাপাশি মূল সংগঠনের প্রতিনিধিকেও প্রার্থী করেছেন তিনি।

ভোটের মাঝপথে যখন প্রশান্ত কিশোরের অডিও নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁকে মাঝেমধ্যেই প্রচারের আলোয় আসতে হচ্ছে। মুখ খুলতে হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে, তখন তিনি আবারও একবার জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের শেষ কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। অভিষেক নন, মমতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের সু্প্রিমোর কথাই চূড়ান্ত তৃণমূলে।

প্রশান্ত কিশোররে একটি অডিও টেপ নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিজেপি অডিও প্রকাশ করে জানিয়েছিল, প্রশান্ত কিশোরের বার্তা বিজেপিকেই সমর্থন করে। সেই অডিও-তে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, বাংলায় মোদীর জনপ্রিয়তা মমতার সমান। মতুয়া ভোট বিজেপির দিকেই রয়েছে। পিকের অডিও খণ্ড খণ্ড অংশ প্রকাশ করে বিজেপি ফায়দা তোলার চেষ্টা করে।

এরপর পিকে পাল্টা জানান, বিজেপির সাহস থাকলে পুরো অডিও প্রকাশ করুক। তিনি দাবি করেন, খণ্ড খণ্ড কথা তুলে ধরায় বিকৃত হয়েছে তাঁর বার্তা। তিনি আগেও যা বলেছিলেন, এখনও সেই সিদ্ধান্তেই অবিচল আছেন। বিজেপি বাংলায় ১০০ আসন ছুঁতে পারবে না। ৯৯-এর মধ্যেই আটকে থাকবে। এরপর পিকে সাফাই দিতে গিয়ে বলেন তৃণমূলে মমতাই শেষ কথা।