Ad
রাজ্য

অষ্টম শ্রেণীর ক্ষুদে শিল্পীর হাতে তৈরি প্রায় দুই ফুট উচ্চতার প্রতিমাতেই এবারে হবে রঘুনাথ গঞ্জের বাড়ির মাতৃ বন্দনা

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : কুমোরপাড়ার কোনও মৃতশিল্পীর হাতে গড়া নয়, অষ্টম শ্রেণীর ক্ষুদে শিল্পী সৌপ্তিক-এর হাতে তৈরি প্রায় দুই ফুট উচ্চতার প্রতিমাতেই এবারে হবে মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথ গঞ্জের বাড়ির দুর্গা পূজা। মাস দুয়েক আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল তার প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই প্রতিমা তৈরি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

প্রতিদিনের পড়াশোনা শেষ করে অষ্টম শ্রেণির সৌপ্তিক গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরিতে মগ্ন। এদিকে অবাক নজরে তার এই প্রতিমা তৈরির কাজ দেখে শিহরিত পরিবারের লোকেরা। বাড়ির ভিতরেই একটি ছোট্ট ঘরে গড়ে উঠেছে সৌপ্তিক দাসের মূর্তি তৈরির কারখানা। মাটি ও কাদা, ঘরের সর্বত্র এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও, দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজে রয়েছে নৈপুণ্যের ছাপ। আপাতত তার হাতের ছোঁয়াতেই অনন্য রূপ পাচ্ছে দুর্গা প্রতিমা।

Ad

এই প্রথম দেবী দুর্গার প্রতিমা বানালো সৌপ্তিক। সৌপ্তিক জানিয়েছে, ছোট থেকেই মূর্তি বানিয়ে আনন্দ পেত সে। যখনই সময় পেত, মাটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে মূর্তি তৈরি করার কাজ করতো সৌপ্তিক।

এবার বাড়ির দুর্গোৎসবে তার তৈরি দুর্গা প্রতিমাতেই পূজা হবে ভেবেই যার পর নাই খুশি সৌপ্তিক। এবার পুজোর আনন্দ আরও বেড়ে যাবে সৌপ্তিকের। তার এই কাজে তাকে তার আঁকার শিক্ষক সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন। তবে বাড়িতে সকলেই উৎসাহিত করেছেন মায়ের মূর্তি গড়ার কাজে।

ছোট থেকেই মূর্তি তৈরির কাজের প্রতি আকর্ষণ ছিল সৌপ্তিকের। কিন্তু পড়াশোনার ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় প্রথম দিকে তাকে সেই কাজে নিরুৎসাহিত করতেন সৌপ্তিকের মা সুদীপা দাস। বর্তমানে অবশ্য তিনি ছেলের হাতের কাজে মুগ্ধ। ছেলের ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিয়ে সে যা করতে চাইবে তাই করতে দেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন সৌপ্তিকের মা।

চতুর্থ শ্রেণী থেকেই মাটি সহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে একে একে নানান মূর্তি গড়ার চেষ্টা করতো সৌপ্তিক। অন্যান্য বন্ধুরা যখন খেলাধূলোয় সময় কাটাতো, সেই সময় নিজের কল্পনা থেকে একে একে নানান মূর্তি গড়ার চেষ্টা করত সে। কখনও পছন্দ না হলে নিজের তৈরি মূর্তি নিজেই আছাড়ে ভেঙে ফেলতো। কিন্তু এখন প্রতিবেশীরাও এই ক্ষুদে শিল্পীর কাজে মুগ্ধ। নিজের ভেতরে বেড়ে ওঠা শিল্পভাবনা থেকেই এই মূর্তি তৈরির কাজ করে সৌপ্তিক। তাই এখন পড়াশোনা না হওয়ার দুশ্চিন্তাকে দূর করে সৌপ্তিকের শিল্পসত্বাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন