এবার ভোটের প্রচারে লাগাম টেনে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন

কলকাতা: লাফিয়ে বাড়ছে করোনা। বাকি তিন দফা ১দিনে করার দাবি উড়িয়ে এবার ভোটের প্রচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন সন্ধ্যা সাতটা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত কোনও মিটিং মিছিল জনসভা না করার নির্দেশ দিয়েছে।

কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল জনসভা, রো-শো, সভা, মিছিল, মিটিং করতে পারবে না। পাশাপাশি ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম দফায় ৭২ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার বন্ধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে আগামীকাল পঞ্চম দফা থেকে নির্বাচনের বাকি পর্বগুলিতে সব রাজনৈতিক দলের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে করোনা বিধি মেনে চলার আবেদন জানিয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় বসু আজ সাংবাদিকদের বলেন, সংক্রমণ প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই নিয়ে আজ সর্বদলীয় বৈঠকে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা-সহ অন্যান্য বিধি মেনে রাজনৈতিক জনসভা, প্রচার, মিটিং, মিছিলে অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে প্রত্যেকের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। করোনা বিধি লঙ্ঘন করলে কমিশনের নির্দেশ মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সঞ্জয়বাবু। এইদিকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব আজ সন্ধ্যায় নির্বাচনের বাকি পর্বগুলোর সঙ্গে যুক্ত সব জেলার জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গে করোনা বিধি মেনে চলা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করেন।

নির্বাচন কমিশনের সর্বদলে দফা কমানো নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। ফলে রাজ্যে আট দফাতেই হবে ভোট। বৈঠক শেষে কমিশনের এই সিদ্ধান্তকেই মেনে নেওয়া কথা জানান সংযুক্ত মোর্চার নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় কী ভাবে কোভিড প্রোটোকল মেনে চলা হবে, সে বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্ট একটি নির্দেশ দিয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ তাদের নেই। এমনটা বলা হয়নি যে, রাজনৈতিক দলগুলি কোভিড প্রোটোকল মানছে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলির কী কী করণীয়, তা নির্দিষ্ট ভাবে বলা হোক। সেই নির্দেশ বামপন্থী তথা সংযুক্ত মোর্চা নিশ্চিত ভাবেই মেনে চলবে।

আবার বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, গণতন্ত্র বহাল রাখতে গেলে নির্বাচন করাতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে চলা হবে। কোভিডের মধ্যে মানুষের প্রাণও রক্ষা করতে হবে। সবদিক নজরে রেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। তবে ৬১ শতাংশ ভোট হয়ে গিয়েছে।

এখন বড় দল নয়, ছোট দল ও নির্দল প্রার্থীদের উপর প্রভাব পড়বে। এদিকে, সারা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজ্যেও বাড়ছে সংক্রমণ। একদিনে করোনা আক্রান্ত প্রায় ৭ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। শুধু কলকাতাতেই কোভিডের বলি ৭। গতকাল ভোরে প্রাণ হারান মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে কংগ্রেস প্রার্থী।

আক্রান্ত গোয়ালপোখরের তৃণমূল ও জঙ্গিপুরের আরএসপি প্রার্থী। এই অবস্থায় ভোট করানোটাও কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বহিরাগতরা বাংলায় ঢুকে করোনা ছড়াচ্ছে। এর জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দায়ী করেছেন তিনি। ভ্যাকসিন নিয়েও মোদী সরকারের তুলোধোনা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্যের মানুষকে বিনা পয়সায় টিকা দিতে দেননি নরেন্দ্র মোদী।