বাংলায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : বাংলায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তর থেকে দক্ষিণে বিরোধী দলের পার্টি অফিসে হামলার ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে বিক্ষিপ্ত ভাবে। বিজেপির অভিযোগ এই সব ঘটনায় তাদের অন্তত ৬ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

এ সব রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানাতে এদিন রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় প্রমুখ।

পরে দিলীপবাবু সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ‘ভোটের ফলপ্রকাশের পর এখনও ২৪ ঘণ্টা পেরোয়নি। এর মধ্যে ছটা প্রাণ চলে গিয়েছে। রাজ্যে হিংসা মাত্রা ছাড়াচ্ছে।’

বিজেপি রাজ্য সভাপতি এলাকা ধরে বলেন কোথায় কোথায় খুন করা হয়েছে তাঁদের কর্মীদের। তাঁর অভিযোগ, জগদ্দলে কমল মণ্ডল নামের এক বিজেপি কর্মীর উপর হামলা করেছিল তৃণমূলের লোকজন। তাঁর মা শোভারানি মণ্ডল তাঁকে বাঁচাতে গেলে বৃদ্ধা মাকেও পিটিয়ে মারা হয়। কলকাতার বেলেঘাটায় অভিজিত্‍ সরকার নামের এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে মারা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এ ছাড়া সোনারপুর এবং শীতলকুচিতে দুই বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে বলে এদিন তৃণমূলকে নিশানা করেন তিনি। দেগঙ্গায় বোমাবাজিতে মৃত আইএসএফ কর্মীর কথাও উল্লেখ করেন দিলীপ ঘোষ।

অন্যদিকে হিংসার ঘটনা নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি নীরজ নয়নের থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন রাজ্যপাল। ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার সোমেন মিত্র এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখাও করেন।

তবে এদিন বিকেলে কালীঘাটে তাঁর বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখন কোভিড মোকাবিলা করাই অগ্রাধিকার। সবাইকে বলব যেন সংযত থাকেন।

অশান্তির ঘটনা না ঘটে। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে যেন পুলিশকে জানায়। হিংসার ঘটনা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগও করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপি এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। বর্ধমানে তৃণমূলের এক কর্মী মারা গেছে। কোচবিহারে এখনও মারছে বিজেপি’। হিংসার ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলেছেন দিদি।