শুভেন্দুর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফাপত্র গৃহীত হচ্ছে না, জানিয়ে দিলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়

ওয়েব ডেস্ক, ১৬ ডিসেম্বরঃ অবশেষে অবসান জল্পনার। বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়লেন শুভেন্দু। গত কয়েকদিন আগেই মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন শুভেন্দু। এরপর থেকেই জল্পনা তৈরি হয় যে, নন্দীগ্রামের বিধায়ক থেকেও ইস্তফা দেবেন হয় তো শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ঠিক কবে তা নিয়ে ছিল হাজারো প্রশ্ন। আর সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিধায়ক পদ ছাড়লেন জননেতা।

জানা গেছে, বুধবার বিকেল পৌনে ৪ টে নাগাদ তিনি বিধানসভায় পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। নিয়ম অনুযায়ী, নিজের হাতে লিখে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন তিনি। তবে এদিন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় না থাকায় তাঁর সচিব অভিজিৎ সোমের কাছে ইস্তফাপত্র দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। হাতে লেখা ইস্তফাপত্রে শুভেন্দু অনুরোধ করেছেন দ্রুত তাঁর পদত্যাগ যাতে গ্রহণ করা হয়।

বিধানসভায় এদিন অধ্যক্ষ না থাকায় তাঁকে ই–মেল করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন শুভেন্দু। পরে আসেন বিধানসভায় সেই সময় অধ্যক্ষ না থাকায় বিধানসভার সচিবের ঘরে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। তবে তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়নি।

স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সচিবকে দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর ইস্তফা গৃহীত হবে না।’একই সঙ্গে জানা গিয়েছে, তৃণমূলনেত্রীর কালিঘাটের বাড়ির ঠিকানাতে চিঠি পাঠিয়ে দলের সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন শুভেন্দু।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে প্রথমবার বিধায়ক হন শুভেন্দু। নির্বাচিত হয়েছিলেন দক্ষিন কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। ২০০৯ সালে নির্বাচিত হন সাংসদ হিসাবে। নন্দীগ্রামকাণ্ডের কুখ্যাত জীবন্ত সন্ত্রাস লক্ষ্মণ শেঠকে পরাস্ত করে তমলুক থেকে জয়ী হন তিনি। ২০১১ সালে তৃণমূল বাংলার ক্ষমতায় এলেও শুভেন্দুকে মন্ত্রী করেননি মমতা। দলের সংগঠনেই রেখেছিলেন তাঁকে।

এমনকি করেননি কেন্দ্রের মন্ত্রীও। ২০১৪ সালেও তমলুক থেকে সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন শুভেন্দু। ২০১৬ সালে অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রাম থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করান। জিতেও যান শুভেন্দু। হন রাজ্যের মন্ত্রীও।

কিন্তু দলে ক্রমাগত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব ও ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হচ্ছিলেন শুভেন্দু। তা থেকেই শুরু মনকষাকষি। বাড়তে থাকে দূরত্ব। শেষে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ, বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা এমনকি তৃণমূলের সদস্যপদও ছেড়ে দিলেন শুভেন্দু। কার্যত তৃণমূলে তাঁর চ্যাপ্টার হয়তো ক্লোজড হয়ে গেল। তবে রাজনীতি চিরকালই সম্ভাবনার ফসল। এখানে হয় না বলে কিছুই নেই। তাই আগামী দিনে কী হবে তা একমাত্র সময়ই বলতে পারবে।