সারা বিশ্বের ইতিহাসে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প মডেল হয়ে থাকবে: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পকে অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এই কাজে এখনও পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “সরকারি পরিষেবাগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রকল্প ভারতে প্রথম, এমনকি পৃথিবীতেও আর কোথাও হয় বলে আমার জানা নেই।”

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, দুয়ারে সরকার শিবিরের মাধ্যমে খাদ্যসাথী, শিক্ষাশ্রী, ১০০ দিনের কাজ, কৃষকবন্ধু, কন্যাশ্রী– সব রকম সরকারি প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মানুষের কাছে। এ জন্য সরকারি কর্মচারীরা রাত ১০টা অবধিও কাজ করছেন সর্বত্র। তারই সুফল হিসেবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ১২ লক্ষেরও বেশি মানুষ শিবিরে উপস্থিত হয়েছেন, সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা পেয়েছেন। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মীরা সহযোগিতা করেছেন বলেই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি তিনি বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন দফতরের কর্তাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, সকলে মিলে পর্যালোচনা করা হয়েছে এই দুয়ারে সরকার নিয়ে। তার পরেই তিনি সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্যগুলো দিচ্ছেন। তিনি আবারও মনে করিয়ে দেন, এটি অভিনব প্রকল্প।এছাড়াও কোন প্রকল্পে কত আবেদন জমা হয়েছে এবং তার মধ্যে কত জনকে পরিষেবা দেওয়া হয়ে গেছে, সে খতিয়ানও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি দাবি করেন, ৪১ লক্ষেপর উপর স্বাস্থ্যসাথী আবেদনের মধ্যে ২৭ লক্ষ ১৩ হাজার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। খাদ্যসাথীর ক্ষেত্রেও ৪৪ শতাংশের বেশি আবেদনকারী কার্ড পেয়ে গেছেন বলে জানান তিনি। আদিবাসীদের পেনশন প্রকল্প জয় জহরেও ৭৫ শতাংশ জন পরিষেবা পেয়েছেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। কন্যাশ্রীও পেয়েছেন ৭২ হাজার জন, বাদবাকি আবেদনকারীও দ্রুত পেয়ে যাবেন পরিষেবা।

দীর্ঘ খতিয়ান দিয়ে তিনি জানান, মোট ৭১ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ৫৪.৭২ শতাংশ কাজ করা হয়ে গেছে। এছাড়াও ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য, যৌনকর্মীদের জন্য, জেলবন্দিদের জন্য ও অন্য়ান্য ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা হয়েছে সরকারি পরিষেবা প্রদানের।

যে সমস্ত সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা এই প্রকল্পে দিন-রাত খাটছেন, তাঁদের শংসাপত্র দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তাঁদের ২ মাসের জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। তিনি জানান, গত বছর ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বেনিফেসিয়ারি প্রকল্পে। এবার তা বেড়ে হয়েচে ২৪,২৫৫ কোটি টাকা। এই টাকা দুয়ারে সরকারের কাজের জন্যই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। কোন ক্ষেত্রে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, সে খতিয়ানও দেন এদিন তিনি। জানান, সবটাই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “আমি মনে করি দুয়ারে সরকার সারা বিশ্বের কাছে মডেল হয়ে থাকবে আগামী দিনে। এসো আমার ঘরে এসো। এমন অভিনব প্রশাসনিক উদ্যোগ আগে কখনও হয়নি।”