Ad
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইপিএস অফিসার বিবেক সহায়কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : বুধবার নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে বিরুলিয়া বাজারে ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁ পায়ে চোট নিয়ে দু’দিন হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামের ওই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইপিএস অফিসার বিবেক সহায়কেই সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন।

সেই সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে রবিবার সন্ধেয় একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অবিলম্বে ডিরেক্টর সিকিউরিটির পদ থেকে বিবেক সহায়কে সাসপেন্ড করতে হবে। জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিকে সুরক্ষা দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

Ad

তাঁর বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের মধ্যেই চার্জ ফ্রেম করতে হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ডিরেক্টর সিকিউরিটি পদে নতুন কাকে নিয়োগ করা হবে সেই দায় কমিশন নিজের কাঁধে নেয়নি। কমিশনের বক্তব্য, দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজ রাজ্য সরকারেরই। তাই ডিরেক্টর সিকিউরিটি পদে নতুন কাউকে নিয়োগ করার দায়িত্ব হল মুখ্যসচিবের। রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে এ ব্যাপারে তিনি আলোচনা করে নিতে পারেন।

কমিশনের আরও বক্তব্য, বিবেক সহায়ের পাশাপাশি তাঁর অধস্তন অফিসারদেরও কর্তব্যে ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে সেই তদন্ত করেও দেখতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হল, তা কমিশনকে জানাতে হবে ১৭ মার্চ বিকেল পাঁচটার মধ্যে।

জানা গেছে, সাসপেন্ড করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশকে। জেলাশাসক বিভু গোয়েলকে বদলি করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নতুন জেলাশাসক হচ্ছেন আইএএস স্মিতা পাণ্ডে। পুলিশ সুপার হিসেবে আসছেন সুনীলকুমার যাদব। বস্তুত, প্রশাসনিক স্তরে এ কথা কয়েক দিন ধরেই আলোচিত হচ্ছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলে কথা তা নিয়েই এত বড় সমস্যা হয়েছে নন্দীগ্রামে। পায়ে ব্যথা ও ফোলা নিয়ে গ্রিন করিডরে করে কলকাতায় এসে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পরে যে জেলার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের দিকে কমিশনের নজর পড়বে, তা আন্দাজ করেছিলেন অনেকেই। আজ হলও তাই।

শুধু তাই নয়, এ কথা স্পষ্ট, যে প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ঘনঘন যাবেন নন্দীগ্রামে। তার আগে এই যে একটা বিশ্রী কাণ্ড হয়ে গেল, যে কোনও ভাবেই হোক মুখ্যমন্ত্রী চোট পেলেন ভিড়ের মধ্যে, এই ঘটনার পরে ডিএম ও এসপি উভয়েই খানিকটা শঙ্কিত হয়ে যাবেন। কুণ্ঠিতও হয়ে যেতে পারেন। খোলা মনে হয়তো কাজ করতে পারবেন না।

সে কথা ভেবেই সম্ভবত ওঁদের জেলা থেকে সরিয়েছে কমিশন। বিজেপি কমিশনে অভিযোগ করেছিল, মুখ্যমন্ত্রীর সিকিউরিটি ডিরেক্টর বিবেক সহায় পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিল হোয়াটসঅ্যাপ কল ফেসটাইম কলের মাধ্যমে। এর পরেই আজ তাঁকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।

আরও পড়ুন