শীতলকুচি কাণ্ডের জেরে বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের, মমতার সফর ঘিরে জল্পনা

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : শীতলকুচি কাণ্ডের প্রেক্ষিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পরবর্তী ৭২ ঘন্টার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতারই কোচবিহার জেলার ভৌগলিক সীমানার মধ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে রবিবারই কোচবিহারে যাওয়ার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শীতলকুচির অকুস্থলে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তার কয়েক ঘন্টা পরই এমন নির্দেশিকা জারি করল কমিশন।

এর আগে কখনও বাংলায় তো বটেই, ভারতেরও কোনও নির্বাচনেই ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনও জেলায় রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে দেখা যায়নি ভারতের নির্বাচন কমিশনকে। শুধু এই অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তই নয়, এদিন আরও এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। সাধারণভাবে ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘন্টা আগে বন্ধ হয় প্রচার। কিন্তু, এদিন নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পঞ্চম দফার প্রচার ৭২ ঘন্টা আগেই বন্ধ করে দিতে হবে।

শনিবার, কোচবিহারের শীতলকুচিতে নির্বাচনের লাইনে দাঁড়ানো তৃমমূল সমর্থকদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘেরাও করে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল তারা। এদিন, নির্বাচনী জনসভা থেকেই এই ঘটনার সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, রবিবার তাঁর আলিপুরদুয়ারে কর্মসূচি আছে। তারমধ্যেই তিনি একবার শীতলকুচিতে মৃত কর্মীদের বাড়িতে যাবেন। কিন্তু, নির্বাচন কমিশের এদিনের নিষেধাজ্ঞার পর তাঁর সেএি কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শীতলকুচি যাওয়া আটকাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত খারাপ। স্পষ্ট পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহাও টুইট করে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেত্রীকে আটকানোর জন্যই, বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, মমতা এখনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই সেই পদের জোরেই তিনি সেখানে যেতে পারেন।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির নেতারা, কমিশনের এই জোড়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, মমতা যাতে সেখানে গিয়ে মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি না করতে পারেন, তার জন্য়ই সম্ভবত কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী অবশ্য বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন পরিচালনায় নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছে কমিশন।