মাথাভাঙ্গার ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দিলেন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : মাথাভাঙার ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দিলেন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে। সূত্রের খবর, তিনি ওই রিপোর্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। জানা গিয়েছে, তিনি রিপোর্টে এও উল্লেখ করেছেন, বাহিনীর জওয়ানদের থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা হয়েছিল।

শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মাথাভাঙা এক নম্বর ব্লকে এদিন যে ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল তোলপাড়। এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিলিগুড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেছেন, দিদির উস্কানির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। পাল্টা বনগাঁর সভা থেকে মমতা বলেছেন, অমিত শাহের নির্দেশে দিল্লির পুলিশ গুলি করে লোকগুলোকে মেরে দিয়েছে।

জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি আয়াপ্পান পি সংবাদমাধ্যমের সামনে কী ঘটেছিল তার বিবরণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, “শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৬ নম্বর বুথের সামনে এক কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে ওখানে গুজব রটে যায়, ওই কিশোরকে গুলি করা হয়েছে। এর পরেই কয়েকশ গ্রামবাসী ঘিরে ধরে বাহিনীর জওয়ানদের।” এও জানা গিয়েছে, স্থানীয় জনতার ঘেরাটোপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

ডিআইজি জলপাইগুড়ি রেঞ্জ আরও বলেছেন, “গুলি চালিয়ে কিশোরকে মারার রটনা থেকেই ওখানে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। বাহিনীর জওয়ানদের হাত থেকে রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় জনতা। এরপরেই গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী।”

সোশ্যাল মিডিইয়ায় একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল। তাতে দেখা যাচ্ছে দূরে একটি গাছের নীচ থেকে দাঁড়িয়ে গুলি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটছেন গ্রামের পুরুষ মহিলারা। ওই ক্লিপিংয়ে এও দেখা যাচ্ছে পিঠে গুলি খেয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়ছেন একজন।

আয়াপ্পান পি জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। তা ছাড়া আরও পাঁচজন ‘নন বুলেট ইনজুরি’ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।