কৃষকদের দেওয়া কথা রাখলেন মমতা , এবারে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : কৃষকদের জন্য উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের (krishak bandhu scheme) ভাতা বৃদ্ধি করা হল। কৃষকরা ১০ হাজার টাকা করে পাবেন। ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা পাবেন, একথা ঘোষণা করলেন মমতা। আগে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হত। ক্ষেতমজুর, বর্গাদাররাও ৪ হাজার টাকা করে পাবেন।

কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে ভোট-পর্বে দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতিই একে একে পূরণ করতে শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একের পর এক মাস্টার স্ট্রোক দিয়েই সেই ধারা অব্যাহত রাখছেন মমতা। এবার কৃষকদের উদ্দেশে দেওয়া কথাও রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একলাফে দ্বিগুন বৃদ্ধি করা হল ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের (Krishak Bandhu Scheme) ভাতা। আগে এই প্রকল্পে বার্ষিক ভাতা ছিল ৫ হাজার টাকা। তা বাড়িয়ে করা হল ১০ হাজার টাকা করা হল। বৃহস্পতিবার নবান্নে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ থেকেই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা পাবেন কৃষকরা।

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা অনুযায়ী, যে সমস্ত কৃষকদের এক একরের কম জমি আছে, তাঁদের বরাদ্দ টাকা বাড়িয়ে ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগে এক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক ছিল মাত্র ২ হাজার টাকা। আবার এক একরের বেশি জমি যাঁদের আছে, তাঁরা পাবেন বার্ষিক ১০ হাজার টাকা। এই খাতে আগে টাকার অঙ্ক ছিল ৫ হাজার। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি কৃষকমহল।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন কৃষক বন্ধু প্রকল্প যেটা আইনে পরিণত হচ্ছে, সেই প্রকল্পে ৬২ লক্ষ মানুষ কৃষক বন্ধু প্রকল্পে উপভোক্তা রয়েছেন।’ একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের যে প্রকল্প তাতে দুই একর না হলে টাকা পাওয়া যায় না। পাশাপাশি সেক্ষেত্রে কোন ক্ষেত মজদুর বা বর্গাদাররা টাকা পান না। এছাড়া অনেক সময় সেই টাকাও কৃষকরা পান না। আমাদের প্রকল্পে তাঁরাও টাকা পাবেন। বছরে দুইবার এই টাকা পাঁচ হাজার/দুই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ মোট ৯,৭৮,৫৩১ জনকে এই আর্থিক সহায়তা হিসেবে মোট ২৯০ কোটি টাকা তুলে দেওয়া হলো। যে পরিবারে ১৮-৬০ বছর বয়সী কোন কৃষক মারা গিয়েছেন এমন ২৮ হাজার কৃষক পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে কৃষি ক্ষেত্রে আরও উন্নয়নে বাড়তি নজর রয়েছে মমতার সরকারের। অনেকদিনই রাজ্যে চালু ছিল কৃষক বন্ধু প্রকল্প। বছরে ৫ হাজার টাকা পেতেন রাজ্যের সমস্ত কৃষকরা। কিন্তু এবারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সেই ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মমতা। সম্প্রতি মন্ত্রিসভাতে তা পাশ হয়। আর আজ থেকেই দ্বিগুন বাড়ানো সেই ভাতা কৃষকদের কাছে পৌঁছতে শুরু করল।

যা থেকে ফের একবার কৃষকদের প্রতি তাঁর দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, কৃষকদের পাশে মমতার থাকার প্রমাণ বারবার মিলছে। দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানোই শুধু নয়, সম্প্রতি কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত নবান্নে এসে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। কেন্দ্রের নতুন কৃষি আইনের শুরু থেকেই বিরোধী ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলকে বারবার পথে নামতেও দেখা গিয়েছে কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে। টিকাইতের সঙ্গে বৈঠকের পরও মমতা সুর চড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি সরকারের উদ্দেশে। জানিয়েছেন, তাঁর এখন একটাই লক্ষ্য, নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরানো।