হাফ লাখ ভোটে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : ফের আরও একবার বঙ্গ রাজনীতির এপিসেন্টার নন্দীগ্রাম | মমতার মাস্টারস্ট্রোকের জবাবে তৃণমূলনেত্রীর গড় থেকেই খোলা চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর। সকালে নন্দীগ্রামের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে যে সদর্প ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর জবাবে দাপটের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা, ‘আজকের তারিখ সময় দেখে লিখে রাখুন। হাফ লাখ ভোটে যদি মাননীয়াকে না হারাতে পারি, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’

বছর দশেক পরে ফের বাংলার রাজনীতিতে বদলের ডাক। আবারও বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নন্দীগ্রাম । শুভেন্দু সহ বিজেপিকে জবাব দিতে মমতার ঘোষণায় চাঞ্চল্য। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে দাঁড়াবেন মমতা বন্দ্যোধ্যায়।

এ দিন নন্দীগ্রামে জনসভা থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ঘোষণা করে দিলেন মমতা নিজেই। নাম না করে কার্যত শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই মমতার খাসতালুক থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নিশানায় তৃণমূল সুপ্রিমো। সরাসরি নাম করে তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ, ‘নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াবেন? সে দাঁড়াতেই পারেন। আপনার দলে কোনও শৃঙ্খলা নেই। যে যা খুশি সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। আপনি আপনার ভাইপো যা খুশি ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু বিজেপি পার্টিটা শৃঙ্খলিত । এখানে যে কেউ কে দাঁড়াবেন ঘোষণা করতে পারে না। ওটা আপনার প্রাইভেট লিমিটেডে হয়। কথা দিচ্ছি পদ্মফুল হাতে নিয়ে পার্টি আমাকে দাঁড়াতে দিক বা অন্য কেউ নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ান, হাফ লাখ ভোটে মাননীয়াকে হারাতে না পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। ‘

নন্দীগ্রাম নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর আবেগ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্ন, ‘নন্দীগ্রামের জন্য উনি কী করেছেন ? ভোট এলে নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়ে। আপনি তো নন্দীগ্রাম আসেন ৫ বছর অন্তর। ‘ এখানেই শেষ নয়, দক্ষিণ কলকাতার সভা থেকে আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে নেত্রীর বুদ্ধি নিয়েও তির্যক মন্তব্য করেন শুভেন্দু। বলেন, ‘তৃণমূল প্রাইভেট লিমিটেডের নেত্রীর এত বুদ্ধি যে, ২৯৪ আসনেই ওনাকে মুখ হতে হয়েছে। জেলার পর্যবেক্ষণেও উনি। এত বুদ্ধি নিয়েও বিহার থেকে ঠিকাদার ভাড়া করে এনে বুদ্ধি ধার করতে হচ্ছে।’

একুশের ভোটের তারিখ ঘোষণার আগেই প্রার্থী নাম ঘোষণা নিয়ে সরগরম বাংলার রাজ্য রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ঘোষণার পর যদিও একে চ্যালেঞ্জ বলে মানতে নারাজ বিরোধীরা। উল্টে তাদের পাল্টা আক্রমণ, হারের ভয়ে সুরক্ষিত জায়গা খুঁজছেন নেত্রী।

সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু মমতাকে বিঁধে বলেন, ‘বাংলায় এখন তৃণমূলের জন্য সেফ কোনও জায়গা নেই।’ জোড়াফুল শিবিরের উদ্দেশে শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ, ‘যে যেখানে দাঁড়াবেন দাঁড়িয়ে যান, শুধু বলে দিন কত ভোটে হারাতে হবে।’ ভবানীপুরে হারের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নন্দীগ্রাম থেকে ভোটের লড়াই করার কথা বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলনেত্রীর মাস্টারস্ট্রোকের পরই এমন দাবি করল বিজেপি। অনেকটা একই সুর আর এক বিরোধী দল সিপিএমেরও।