মোহভঙ্গ, বিজেপি থেকে নিষ্কৃতি চাইলেন শোভন–বৈশাখী

ওয়েবডেস্ক:‌ যোগদানের কয়েকদিন পর থেকেই গন্ডগোল চলছিল। এবার বিবাদ চরমে উঠল। বিজেপি থেকে এবার নিষ্কৃতি চাইলেন শোভন চ্যাটার্জি এবং বৈশাখী ব্যানার্জি।

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আপাতত দল থেকে নিষ্কৃতী চেয়ে তাঁরা বলেছেন প্রয়োজনে পরে দুজনের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেবেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। এব্যাপারে বৈশাখী বলেছেন, ‘‌যোগদানের পর থেকেই একগুচ্ছ ঘটনা আমাদের বিরক্ত করছিল। যেটা আমার মনে হয়েছে ঠিক নয়। আমার ব্যাপারে বলা হচ্ছিল যে আমি পদ নিয়ে উচ্চাকাঙ্খী। কখনও শোভনবাবুকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও আমাকে হয়নি। অসত্য কথা বলে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে। পুরনো দলের চটিতেই যদি বিজেপি পা গলায় তাহলে তো পুরনো দলেই থাকা যেত।’‌ শোভন চ্যাটার্জি কোনও দলেই যোগ না দিয়ে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নিতে চেয়েছিলেন বলে জানালেন বৈশাখী।

তিনি বললেন, ‘‌শোভনবাবু আমাকে বলেছেন যেখানে সেতুটাই ছিলে তুমি সেটাই ভেঙে দিয়ে ওরা আমার কাছে পৌঁছতে চাইছে। আমাদের মনে হয়েছে, এই পরিবেশে কাজ করা সম্ভব নয়।’‌

গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে শোভন–বৈশাখী বৈঠক করেছিলেন। সেখানেই বিজেপি ছাড়ার ব্যাপারে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন তাঁরা। বৈশাখী বলেন বিজয়বর্গীয়র কাছেই তাঁদের, বিশেষত তাঁর ব্যাপারে দলে চলা অপপ্রচারের ব্যাপারে জানতে পারেন। এবিষয়ে বৈশাখী বললেন, ‘‌বৃহস্পতিবারই প্রথমবার বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে দেখা হয়।

শোভনবাবু বিজয়বর্গীয়কে বলেছেন, যে মানুষটা আমাকে রাজনীতিতে থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছেন তাঁকে নিয়েই দলে অপপ্রচার করা হচ্ছে। আমরা তো কিছুই চাইনি। মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। তাই বিজয়বর্গীয়কে বলেছি, যা শুনছি তাতে আর একমুহূর্ত বিজেপিতে থাকা সম্ভব নয়। তাই আমাদের নিষ্কৃতি দেওয়া হোক।’‌

প্রসঙ্গত ১৭ দিন আগেই দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন শোভন–বৈশাখী। তারপর থেকেই নানা কারণে বিজেপির প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বৈশাখী। শনিবারও কলকাতায় বিজেপির প্রদেশ অফিসের সদর কার্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে শোভন চ্যাটার্জিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বৈশাখীকে ডাকা হয়নি।‌‌

বৈশাখীর এই মন্তব্যের ব্যাপারে প্রদেশ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, ‘‌দলে সবার কাজ করার অধিকার আছে। যাঁরা এসেছেন তাঁরা স্বেচ্ছায় এসেছেন। বিজেপি সবাইকে স্বাগত জানিয়েছে। কারও কোনও অসুবিধা হলে যেটা কথাবার্তা বলে সমাধান করা যাবে।’‌ তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার চলছে বিজেপিতে বলে বৈশাখীর অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে দিলীপ বলেন তাঁকে এব্যাপারে কেউ কিছু জানাননি।