Ad
রাজ্য

প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে দ্বিগুণ শিক্ষক নিয়োগ, সেটা কবে? শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ চাকরিপ্রার্থীরা

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : ক্ষমতায় এলে দ্বিগুণ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে, নির্বাচনি প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতই তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক স্কুল সার্ভিসের মেধা তালিকাভুক্তদের নিয়োগে তত্‍পর হয়েছে কমিশন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন করোনার জন‍্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের চাকরিপ্রার্থীরা সময় ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তাই মানবিকতার দিক থেকে মুখ‍্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী তাদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথচ ২০১৮ পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে লাগাতার রাজ্য সরকারের কাছে তাদের নিয়োগের আবেদন জানিয়ে আসছে।

Ad

তাদের সঙ্গে হওয়া অসংখ্য বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিষয়টি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি, ইমেইল এবং নানাভাবে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সচেষ্ট হলেও আজও তাদের সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। এই পরিপ্রেক্ষিতে আজ শিক্ষামন্ত্রীকে কলেজগুলির শূন্যপদে মেধা তালিকাভুক্ত দের দ্রুত নিয়োগের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিলেন ২০১৮ পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা।

ক্ষমতায় এলে দ্বিগুণ শিক্ষক নিয়োগ হবে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই তাঁদের আশা, নুতন শিক্ষমন্ত্রী ব্রাত্য বসু কলেজে মেধা তালিকাভুক্তদের নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। মেধা তালিকাভুক্ত প্রার্থী সুপ্রিয় কুমার দাস বলেন-‘আমরাও করোনা অতিমারির জন‍্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অনেক বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ‍্যে শূন‍্যপদ তৈরির কাজ লকডাউনের জন‍্য হয়ে ওঠেনি।

আবার অনেক বিষয়ে প‍্যানেল ভ‍্যালিডিটি নির্ধারিত সময় মেনে পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশন কার্যকর করেনি। স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওয়েটিং এর চাকরিপ্রার্থীরা সরকারের মানবিকতার সুফল পেলেও আমরা কলেজ সার্ভিস কমিশনের চূড়ান্ত মেধাতালিকাভুক্ত প্রার্থীরা কি দোষ করলাম? আর আমাদের নিয়োগ দিলে আখেরে লাভ সাধারণ মানুষের।’

২০১৮ র মেধা তালিকাভুক্তদের সংগঠনের সহকারি প্রেসিডেন্ট শেখ আবদুল হামিদ বলেন- ‘২০১৮ সালের বিজ্ঞপ্তির একটি বিষয়ের এখনও ইন্টারভিউ হয়নি, তিনটি বিষয়ের মেধা তালিকাই প্রকাশিত হয়নি। এমনকী আমাদের মেধা তালিকাভুক্ত সামান্য কয়েক’শ প্রার্থীকে নিয়োগ না করেই, কয়েকটি বিষয়ের মেধা তালিকার বৈধতা শেষের আগেই নতুন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় ২৪ ডিসেম্বর ২০২০ তে। শূন্যপদ যদি থাকে এবং অধ্যাপক নিয়োগই যদি লক্ষ্য হয় তাহলে আমাদের নিয়োগ কেন করা হবে না? প্যানেল প্রকাশের পরে আরো শূন্যপদ যোগ করে রিকাউন্সেলিং এর মাধ্যমে অনেক প্রার্থীকেই নিয়োগ দেওয়া হলে আমরা বঞ্চিত কেন?’

২০১৮ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলেজগুলিতে UGC-র নিয়ম মেনে CBCS পদ্ধতিতে পড়াশোনা শুরু হয়েছে। করোনার জন্য প্রায় সকলেই ভালো নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করায়, কলেজগুলিতে ছাত্র-ছাত্রীর চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ কলেজে এমন বহু বিভাগ রয়েছে যেখানে একজনও স্থায়ী অধ্যাপক নেই। অথচ ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ UGC তার অধীনস্থ সমস্ত কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় মাসের মধ্যে সমস্ত পূর্ণ সময়ের শূন্যপদে অধ্যাপক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল, যা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের ৪৫২ টি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কলেজে পূর্ণ সময়ের স্থায়ী অধ্যাপকের শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৩০,০০০ বা ৬৫%। বহু সংখ্যক স্থায়ী অধ্যাপক পদ শূন্য থাকলেও তিন বছরে তার সামান্য অংশে নিয়োগ হয়েছে।

কলেজ সার্ভিস কমিশন নিয়মবিরুদ্ধ ভাবে ইন্টারভিউতে ৪০% নম্বর রেখে ভাল পরীক্ষা সত্ত্বেও প্রকৃত মেধাবী উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের মেধা তালিকার পিছনের দিকে ঠেলে দিয়ে স্বজন পোষণ ও দুর্নীতিকে প্রসারিত করেছে। মেধা তালিকায় প্রার্থীর নামের পাশে কোনো নম্বর বা কিছুরই উল্লেখ নেই। তথ্য জানার অধিকারে জানতে চাইলেও সকলের নম্বর জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের।

আরও পড়ুন