বিজেপিকে ‘ভাষা সন্ত্রাসের’ আমদানিকারক বলে কটাক্ষ পার্থর

ঝাড়গ্রামঃ জঙ্গলমহল উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে বিজেপিকে ভাষা সন্ত্রাসের আমদানিকারক বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভাষা সন্ত্রাস আমদানিকারক বিজেপি। পুঁতে দেবো, বিধবা করে দেবো, হাত ভেঙে দেবো, বাড়ি থেকে বেরোতে দেবো না, এটা কোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে পড়ে না। এই যে শব্দসন্ত্রাস চলছে এটা কোনও ভাবে গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। আমাদের রাজনৈতিক বিবাদ থাকতে পারে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আলাদা আলাদা পদ থাকতে পারে। কিন্তু বিজেপি যে ভাবে এখানে ভাষাসন্ত্রাস বা শব্দসন্ত্রাস আমদানি করেছে। তা মোটেই গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।

পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক দপ্তর ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও শুরু হচ্ছে জঙ্গলমহল উৎসব। বুধবার ২০ জানুয়ারি থেকে ২৭শে জানুয়ারি পর্যন্ত আট দিন ধরে এই জঙ্গলমহল উৎসব চলবে। এবছর জঙ্গলমহল উৎসব ৭ বছরে পদার্পণ করল। ঝাড়গ্রাম শহরের ননীবালা বিদ্যালয়ের হোস্টেল মাঠ প্রাঙ্গণে এই জঙ্গলমহল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জঙ্গলমহলের মুলবাসী আদিবাসী সম্প্রদায়ের চাং, রণপা, পাতা, পাইক, ভাদু, ঝুমুর, বাউল, টুসু গান প্রভৃতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। জঙ্গলমহল প্রাঙ্গনে রয়েছে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলা ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিধায়ক দপ্তর এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের সুদৃশ্য প্যাভিলিয়ন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি দপ্তরের ৪২ টি প্রদর্শনী স্টল ও জঙ্গলমহলের হস্তশিল্প সামগ্রীর প্রদর্শন ও বিক্রয়ের জন্য কারিগরী হাট রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ সূত্রে জানা যায়, এবছর জঙ্গলমহল উৎসবের জন্য প্রায় চার কোটি টাকার বাজেট রয়েছে।

মূলত জঙ্গলমহলের শিল্প ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং সকলের কাছে তুলে ধরার জন্য জঙ্গলমহল উৎসব । জঙ্গলমহল উৎসব পুরুলিয়া বাঁকুড়া পশ্চিম মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম এই চার জেলার লোকো শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ সূত্রে জানা যায়, এবছর জঙ্গলমহল উৎসবে ৭৫০ টি লোকশিল্পীর দল অংশগ্রহণ করছে।

এদিন উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল মুর্মু, ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি মাধবী বিশ্বাস, গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক চূড়ামনি মাহাত, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের সচিব সুব্রত বিশ্বাস, ডিপিএসসির চেয়ারম্যান বিরবাহা সরেন টুডু, আদিবাসী শিক্ষা দপ্তরের চেয়ারম্যান রবিন টুডু, ঝাড়গ্রামের জেলা শাসক আয়েশা রানী এ, ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার ইন্দ্রা মুখোপাধ্যায়, সমাজসেবী ছত্রধর মাহাত, বিনপুরের বিধায়ক খগেন্দ্রানাথ হেমব্রম সহ একাধিক অধকারিক।