Ad
রাজ্য

বিদেশি’- কে টেক্কা দিতে চোলাই মদে লেবু-অরেঞ্জ-আপেল ফ্লেভার

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্বাদ বদলাচ্ছে চোলাই মদও। সাদা ফ্যাটফ্যাটে চোলাইয়ের বদলে এবার তৈরি হচ্ছে ফ্লেভার্ড চোলাই। কোথাও চোলাইয়ের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে চা ও আদা। দুটো গন্ধই মিশছে সেখানে। কোথাও মেশানো হচ্ছে পাতিলেবুর ফ্লেভার। তৈরি হচ্ছে অরেঞ্জ ফ্লেভারের চোলাই।

এমনকী তৈরি হচ্ছে আপেল ফ্লেভারের চোলাইও। আবগারি দফতরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, চোলাই ধরার অভিযানে গিয়ে এমন অভিনবত্ব নজরে এসেছে তাঁদের। তবে ফ্লেভার যাই হোক, আইন মেনে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিনবত্ব আনা চোলাই কারবারীদের। কাটোয়ার আবগারি দফতরের ওসি অনিমেষ চক্রবর্তী বলেন, ‘চোলাইয়ে বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে ফ্লেভার্ড চোলাই তৈরির বিষয়টি আমাদের নজরে আসছে। আইন মেনে পদক্ষেপও করা হচ্ছে।’

Ad

চোলাইয়ের বাজার ধরার সেখানেও এখন কড়া প্রতিযোগিতা। সাধারণ চোলাইয়ে আর আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। তাই ‘গবেষণা’ চালিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ফ্লেভার্ড চোলাই। এমন ট্রেন্ড বেশ নতুন বলেই জানা যাচ্ছে। ফলে খদ্দেররা সাধারণ চোলাইয়ের থেকে প্রায় একই দামে পেয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন গন্ধযুক্ত চোলাই।

তাই ব্যবসার তাগিদেই নিত্য নতুন অভিনবত্ব নিয়ে আনছেন চোলাই কারবারীরা। অন্য দিকে, বাজারে আসছে রাজ্য সরকারের নিজস্ব দেশি মদের ব্র্যান্ড মহুল। এর দামও খুব কম। ফলে এই দেশি মদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে চোলাই। সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য চোলাই কারবারীরাও নতুন মোড়কে আনতে চাইছে তাদের পণ্য। দেশি প্রযুক্তিতেই মাথা খাটিয়ে চোলাইয়ের সঙ্গে যোগ করা হচ্ছে বিভিন্ন ফ্লেভার।

কাটোয়া মহকুমার বিভিন্ন জায়গায় এমনই ফ্লেভার্ড চোলাই তৈরির খবর মিলেছে। সম্প্রতি মঙ্গলকোটের জবগ্রামের একটি বাড়িতে হানা দেয় আবগারি দফতর। সেখান থেকে উদ্ধার হয় আদা-চা ফ্লেভারের চোলাই। জানা গিয়েছে, চোলাই তৈরির পর তাতে মেশানো হচ্ছে চা পাতার কষ। সেই সঙ্গে থেঁতো করে আদার রস মেশানো হচ্ছে চোলাইয়ে। এই দুই উপকরণ মেশানোর পরেই চোলাইয়ের চিরাচরিত রং ও স্বাদ দুই বদলে যাচ্ছে। একই ভাবে পাতিলেবু থেকে তৈরি হচ্ছে অরেঞ্জ ফ্লেভার, আপেলের খোসা ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে আপেল ফ্লেভার। এতে খুব বেশি খরচও হচ্ছে না। প্রায় একই দামে চোলাই বিক্রি করতে পারছেন বিক্রেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চোলাই কারবারী বলেন, ‘মূলত বেশি করে খরিদ্দার টানতেই এই সব নতুন পন্থার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এমনিতেই লুকিয়ে চালাতে হয় এই ব্যবসা। ফলে নতুন কিছু পেলে খদ্দেরের সংখ্যাও বাড়বে। তাই এমন ফ্লেভারের ভাবনা।’

আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন অল্প পরিমাণেই এমন চোলাই তৈরি করা হচ্ছে। এক জায়গায় চার থেকে পাঁচ লিটারের বেশি ফ্লেভার্ড মদ এখনও উদ্ধার হয়নি। মঙ্গলকোটের আবগারি দপ্তরের ওসি কাজল চক্রবর্তী বলেন, ‘কেউ কেউ এমন ফ্লেভার্ড চোলাই তৈরি করছে। সেটাও একই ভাবে বেআইনি। আমরা কোনওরকম চোলাই তৈরির খবর পেলেই হানা দিচ্ছি। মদ বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। বিক্রেতা বা যে তৈরি করছে তাকেও গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে।’ শুধুমাত্র মঙ্গলকোট থেকেই চলতি মাসে প্রায় চারশো লিটার চোলাই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন