‘ঘরে বসে বসেই বেতন পাচ্ছি’ সেই টাকায় লকডাউনে কর্মহীন ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্য শিক্ষকের

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : বেতনের একটা অংশ দিয়ে করোনা সংক্রমিত রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের এক স্কুল শিক্ষক। লকডাউনে কর্মহীন ও করোনা সংক্রমিত ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্যও করছেন মৃণাল মোদক নামের ওই শিক্ষক। এক স্কুল শিক্ষকের এহেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খুশি রায়গঞ্জবাসী।

লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির কারণে স্কুল বন্ধ। কার্যত ঘরে বসে বসেই বেতন নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এটাই ‘গায়ে লেগে’ছে রায়গঞ্জের মহারাজা জগদীশনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষক মৃণাল মোদকের। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর বেতনের একটা বড় অংশ তিনি ব্যয় করবেন সমাজসেবায়। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। করোনা সংক্রমিতদের পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। লকডাউনের জেরে কর্মহীন পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশেও দাঁড়ান ব্যতিক্রমী এই শিক্ষক।

পেশায় শিক্ষক মৃণালকান্তি সিংহ সমাজসেবার নেশা বহুদিনের। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহরের মহারাজা জগদীশনাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভুগোল বিষয়ের সহ-শিক্ষকের দাবি, “সরকার আমাদের বেতন দিচ্ছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কোনও কাজ না করে বসে বসে টাকা নিচ্ছি। এই টাকা মানুষের স্বার্থে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।”

রায়গঞ্জের কাছেই রূপাহার থেকে একটু দূরে মৃণালবাবুর গ্রামের বাড়ি। বর্তমানে তিনি রায়গঞ্জের মহারাজা জগদীশ নাথ হাই স্কুলের সহ শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। লকডাউন আর কোভিড পরিস্থিতিতে গত বছর থেকেই দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে স্কুলের পঠন-পাঠন। তবুও মৃণাল বাবুর যেন কথা বলার সময় নেই। করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলির কাছে খাবার-ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে দেখছেন কার কী সমস্যা। তেমনি লকডাউনে কর্মহীন পরিযায়ী শ্রমিকদেরও নিজের সামর্থ্য মতো কিছু আর্থিক সাহায্য করে চলেছেন এই শিক্ষক।

তাঁর কথায়, ‘বসে বসেই তো বেতন নিচ্ছি। তাই যতদিন না সরকার আমাকে কোনও কাজে লাগাচ্ছে, ততদিন আমার বেতনের একটা অংশ বিভিন্ন সামাজিক কাজে দান করব।’ রায়গঞ্জ শহরের করোনা আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা তাঁর। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিজের এই ইচ্ছের কথা জানিয়ে পোস্ট করেছেন মৃণালবাবু। তাঁর বক্তব্য, ‘শিক্ষকরা সমাজ গড়ার কারিগর। তাই সমাজ যখন ঘোর বিপদের মধ্যে দিয়ে চলছে, তখন আমাদের মত শিক্ষকদের এগিয়ে আসা উচিত।’ তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরের বন্ধ স্কুল গুলিকে সেফ-হোম করে সেখানে ডাক্তার নার্সদের সাহায্য করার জন্য শিক্ষকদেরও কাজে লাগানো হোক।

স্বামীর এই কর্মকাণ্ডে তাঁর পাশে রয়েছেন স্ত্রী রুমকী মোদক। তাঁর কথায়, ” উনি বেতনের ১০০ শতাংশ সমাজের এই কঠিন পরিস্থিতির জন্য দান করলেও আমার কোনও সমস্যা নেই। আমার ছোট ব্যবসা দিয়ে সংসার চালিয়ে নেব।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওঁর মতো সসস্ত শিক্ষক এগিয়ে এলে, একে অন্যের পাশে থাকলে এই কঠিন পরিস্থিতি সামলে উঠতে পারব।” মৃণালবাবুর এহেন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজ কর্মীরাও।