বাংলার সরকার চাল চুরি, কাটমানির সরকারঃ জেপি নাড্ডা

ইউবিজি নিউজ ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার কৃষকদের মন জয়ে ‘কৃষক সুরক্ষা অভিযান’ কর্মসূচীর সূচনা করলেন সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা। তার আগে এদিন নির্ঘারিত সময়ে কিছু পরে দিল্লি থেকে অন্ডালে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকেই কপ্টারে চলে যান কাটোয়ায়। রাধা-গোবিন্দ মন্দিরে পুজো দেন নাড্ডা।

সেখান থেকে ‘কৃষক সুরক্ষা অভিযান’ কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। সূচনা করেন দলীয় কর্মসূচির। ওই মঞ্চ থেকেই কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্প বাংলা চালু না করতে দেওয়া থেকে চাল চুরি, কাটমানির প্রসঙ্গে টেনে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় বেঁধেন জে পি নাড্ডা।

কেন্দ্রের নয়া কৃষি আইন নিয়ে হাজারও চাপের মাঝে বিজেপির লক্ষ্য একটাই-বাংলার কৃষকদের সমর্থন পাওয়া। সেই লক্ষ্যেই শনিবার ঝটিকা সফরে ‘কৃষক সুরক্ষা অভিযান’-এর সূচনায় বিজেপি সর্বভারতী সভাপতি বেছে নিলেন বাংলার ‘শস্যগোলা’ বলে পরিচিত বর্ধমানের কাটোয়াকেই। আর সেখান থেকেই তৃণমূল সরকার তথা নেত্রীকে উদ্দেশে লাগাতার আক্রমণ শানালেন জেপি নাড্ডা।

এদিন জগদনান্দপুরের সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে নাড্ডা জানান, ‘বাংলার মানুষ বিজেপিকে চাইছে। ক্ষমতায় এলে বাংলার কৃষকদের উন্নয়ন করবে বিজেপি সরকার। কৃষকরা বিচার পাবেন।’ জেনে রাখুন, মমতাদিদি কিছুই করবেন না।”

এরপর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে সরাসরি তাঁর বক্তব্য, “এখন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীকে বলছেন বাংলায় কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্প চালু হবে। আমি বলছি মমতা দিদি তার আর প্রয়োজন নেই। বাংলায় বিজেপির ক্ষতায় আসা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। ৪০ হাজার গ্রামের কৃষকদের সংগঠিত করা হবে। ২৪-৩১ জানুয়ারি হবে কৃষক ভোজ কর্মসূচি।”

নাড্ডার ভাষণে স্পষ্ট, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ত্রুটিবিচ্যুতি তুলে ধরে জানান, ‘তৃণমূল মানেই চাল চোর। কোভিড পরিস্থিতিতে চাল চুরি করেছে তৃণমূল। আমরা রেশন দি, ওরা চুরি করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন মা, মাটি, মানুষের সরকার। কিন্তু আসলে ওটা তোলাবাজি, তুষ্টিকরণ ও তাবেদারির সরকার।”

এদিন নাড্ডার সফর উপলক্ষে গোটা বর্ধমান জেলা গেরুয়া ফ্ল্যাগ ফেস্টুনে মুড়ে ফেলা হয়েছে। কৃষক সভা শেষে গ্রামের পাঁচ কৃষকের বাড়ি থেকে এক মুঠো করে শস্য সংগ্রহ করছেন নাড্ডা। দুপুরে কৃষক পরিবারে খাওয়া দাওয়া সারেন তিনি।

এরপর কাটোয়া থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি সোজা চলে আসবেন বর্ধমান শহরে। পুজো দেবেন সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। এরপরই শহরের ক্লক টাওয়ার থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত রোড শো করবেন তিনি। সেখান থেকে হোটেলে ফিরে রাজ্য কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন জেপি নাড্ডা। এরপর রয়ছে নাড্ডার সাংবাদিক সম্মেলন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা নাগাদ ফের অন্ডাল বিমানবন্দর থকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি।