জেলায় শুরু করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান

ঝাড়গ্রামঃ ঝাড়গ্রাম জেলায় তিনটি জায়গায় করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান শুরু হল। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার জেলার তিনটি জায়গায় করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান হল। ঝাড়গ্রাম শহরের নার্সিং ট্রেনিং স্কুল, নয়াগ্রাম ব্লকের চাঁদাবিলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বেলপাহাড়ী ব্লকের শিলদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এই তিনটি জায়গায় করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান হল। রাজ্য থেকে সেরকম নির্দেশ পাঠিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে। এদিন করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রানে অংশ নিলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলায় প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ২ জন স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য ভোটের মতো পোলিং বুথ করে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। সেজন্য ঝাড়গ্রাম জেলায় ১০২টি বুথ ঠিক করা হয়েছে। এমনকি ইভিএমের মতো করোনা ভ্যাকসিন পুলিশ প্রহরায় প্রতিটি ব্লকে নিয়ে যাওয়া হবে।

জেলা টাস্ক ফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলায় তিনটি পর্যায়ে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের, দ্বিতীয় পর্যায়ে ফ্রন্ট লাইন ওয়ার্কার, তৃতীয় পর্যায়ে যাদের বয়স ৫০ এর বেশি বা যাঁদের ৫০ বছরের নীচে কো¬মর্বিডিটি রয়েছে তাঁদের দেওয়া হবে। করোনা ভ্যাকসিন রাখার জন্য ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে বিশেষ রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভ্যাকসিন আসার আগে সেজন্য সমস্ত রকম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। জেলায় ১৫টি কোল্ডচেন পয়েন্ট ঠিক করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, জেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলে সাড়ে ১০ হাজার ২ জনের স্বাস্থ্যকর্মীর তথ্য তৈরি করা হয়েছে। আগে স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তবে গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্রামীণ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেওয়া হবে। পরবর্তী ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য জেলায় ১০২টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। এজন্য ১০২টি টিম গঠন করা হয়েছে। একটি টিমে পাঁচজন করে সদস্য থাকবেন। একজন চিকিৎসক, বাকিরা জিএনএম, এএনএম, আশাকর্মীরা থাকবেন। ব্লকগুলিকে ভ্যাকসিন নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনটি গাড়ি ঠিক করা হয়েছে। প্রতিটি গাড়ি পুলিশি নিরাপত্তায় নিয়ে যাওয়া হবে। যাতে ভ্যাকসিন লুঠ না হয়। সেখানে ভোট গ্রহণের মতো সেখানে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

ভ্যাকসিন দেওয়ার পর আধঘণ্টা বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য জেলা স্তরে ট্রেনিং দেওয়া হয়ে গিয়েছে। ব্লকস্তরে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। তবে তৃতীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য ভোটার তালিকা থেকে নাম সংগ্রহ করা হবে যাদের বয়স ৫০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে।