ভোট মিটতেই পুলিশকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশেষ নজরে কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপার

UBG NEWS ONLINE DESK: ভোট মিটতেই পুলিশকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিশেষ করে যারা উর্দি পরে কাছা খুলে বিজেপির হয়ে কাজ করতে নেমে পড়েছিলেন তাঁদের এবার সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানালেন, ‘কয়েকজন পুলিশ বিজেপির হয়ে আসরে নেমেছিল। সেইসব পুলিশ অফিসার মনে করে ঠিক কাজ করেছে, আমি মনে করি না। আইন সামলানোর দায়িত্ব পুলিশের।’

এর পাশাপাশি বাড়তি নজর যে তিনি শীতলকুচির কাণ্ডের জন্য কোচবিহারের এসপির প্রতি দেবেন সেটাও জানিয়ে দিলেন। বলে দিলেন, ‘কোচবিহারের এসপি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। বিজেপি খুন অত্যাচার করছে। সব থেকে বেশি অত্যাচার করছে কোচবিহারে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও খুব অত্যাচার করছে। সব দেখে নেব।’

কোচবিহার জেলার শীতলকুচিতে গত ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফার ভোটের দিন বুথের মধ্যে গুলি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাতে ৪জন ভোটার মারা যান। সেই ঘটনায় কোচবিহার জেলার পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গুলিচালনার ঘটনায় কমিশনকে পাঠানো এসপির রিপোর্ট নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছিল।

কেননা এসপি তাঁর রিপোর্টে বলেছিলেন, ‘যে বুথে গুলি চালনার ঘটনা ঘটেছে সেখানে ঘটনার আগে এক যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাঁর চিকিৎসা করছিল স্থানীয় কয়েকজন যুবক। সেই সময় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিল বাহিনীর কয়েক জন জওয়ান। ঠিক তখনই গুজব ছড়ায়, সিআইএসএফের মারে ওই যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার পরই প্রায় তিনশো-সাড়ে তিনশো গ্রামবাসী, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা, জওয়ানদের ঘিরে ধরে। তার জেরেই ওই বুথে উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীরা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কাছ থেকে।

এমনকী, ব্যালট ছিনতাইয়ের অবস্থাও তৈরি হয়। তখন নিয়ম মেনেই গুলি চালায় বাহিনী। ১৫ রাউন্ড গুলি চলে। তাতেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় কয়েকজন সিআইএসএফ জওয়ানও জখম হয়েছেন। জখম হয়েছেন হোমগার্ডও।’

যদিও এই রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবের অনেক হিসাবই মেলেনি। কেননা, বুথের মধ্যে কোনও যুবক আদৌ অসুস্থ হয়েছিল কিনা সেটাই জোর গলায় কেউ বলতে পারেননি। না ভোটাররা, না এলাকার বাসিন্দারা, না কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা, না সংবাদমাধ্যমের কোনও প্রতিনিধিরা। এমনকি সেই যুবকের নাম পরিচয়ও সামনে আসেনি। সত্যিই কী বুথে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নাকি এই অসুস্থতার গল্প বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আসল সত্যকে ধামাচাপা দিতে। প্রাণপণে কোনও সত্যকে আড়াল করে রাখার জন্য। সেই প্রশ্ন কিন্তু উঠে গিয়েছে।

পুলিশ সুপার তাঁর রিপোর্টে এই কথাও বলেছেন এদিনের ঘটনায় নাকি কয়েকজন সিআইএসএফ জওয়ানও জখম হয়েছেন। জখম হয়েছেন হোমগার্ডও। এই দাবিরও সমর্থনে কোনও বাস্তব তথ্য বা চিত্র মেলেনি। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফেও এই দাবি করা হয়নি।

এরপরেই মমতা কোচবিহারের পুলিশ সুপার দেবাশিস ধরকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘শীতলকুচির ঘটনা পরিকল্পিত। এসপি-র সঙ্গে বসে প্ল্যান করেছে বিজেপি। ওই ঘটনার তদন্ত করবই। তদন্তে আসল ঘটনা বের করব।’

আর এদিন সেই পুলিশ সুপারকে লক্ষ্য করেই বলেছেন, ‘এত ভাল জয় হওয়ার পরও বিজেপির অত্যাচারের স্বভাব যায়নি। বিজেপি এটা নিয়ে বাড়াবাড়িও করছে। আজও আমাদের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সব থেকে বেশি অত্যাচার করছে কোচবিহারে। ওখানকার এসপিটা ওদের হয়েই কাজ কাজ করছে।

কোচবিচারের পুলিশ সুপারের ইন্ধনেই নির্বাচন হয়েছে। সেটা সবারই মনে থাকার কথা।’ মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের এই বক্তব্যের জেরেই এখন অনেকেই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী খুব দ্রুত কোচবিহারের এসপিকে নিয়ে বড়সড় কোনও পদক্ষেপ নিতে চলেছেন।