শাসকদলের উপর চাপ আরও বাড়াতে রাজ্যে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনী

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : ভোটের বাদ্যি বাজার অপেক্ষায় বাংলা। শনিবার সাতসকালে রাজ্যে এল কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতা স্টেশনে এদিন চার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই দুর্গাপুরে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বীরভূম, বাঁকুড়া, বর্ধমানে এক কোম্পানি করে বাহিনী থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে টহল দেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের আগে যেসব এলাকা উত্তেজনাপ্রবণ, সেখানে টহল দিতে পারে বাহিনী। সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়ানোর কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। জানা যাচ্ছে, আজ রাজ্যে মোট ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে। ধাপে ধাপে মোট ১২৫ কোম্পানি বাহিনী আসবে রাজ্যে।

ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, খুব শীঘ্রই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে চলেছে। সূত্রের খবর, আগামী রবিবার থেকেই বিভিন্ন জায়গায় এরিয়া ডমিনেশন, ভোটারদের মনোবল বাড়ানোর কাজ শুরু হবে। এক পুলিশ কর্তা বলেছেন, ‘অ্যাডভান্স ফোর্স হিসাবেই তাঁরা আসছেন।’

গত ডিসেম্বর মাসেই রাজ্যের শাসকদলের উপর চাপ আরও বাড়াতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী

দিয়ে ভোট করানোর দাবিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল BJP। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত, এই অভিযোগ তুলে রাজ্য BJP-র পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি সামনে যে যে রাজ্যেগুলিতে ভোট রয়েছে সেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভল্লার সঙ্গে বৈঠকে বসেন নির্বাচন কমিশনের কর্তারা। কলকাতায় ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন আসার আগেই বৈঠক এই বৈঠক হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের তরফে চিফ ইলেকশন কমিশনার সুনীল অরোরা আগেই বলেছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জানে, কী ভাবে এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করাতে হবে।’ একদা মাও অধ্যুষিত জেলা যেমন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় জেলাগুলিতে প্রথম থেকেই বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলেই খবর। উল্লেখ্য, গত লোকসভা ভোটে এই সংখ্যাটা বাহিনী সংখ্য়া ছিল ৭৫০। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লোকসভা ভোটের থেকেও বেশি সংখ্যক আধাসেনা রাজ্যে আনা হবে।

সুষ্ঠু ভোট যাতে সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে শুক্রবার রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলেন BJP নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজ্যপালকে বলেছি, ঘটনা দেখতে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন চাই, তাতে মানুষের রায় যা হবে, তাই মেনে নেব। আমরা সকলে দেখেছি কীভাবে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে। অবাধ ভোট করতে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনীই যথেষ্ট নয়। গুণ্ডাবাহিনীকেও দমন করতে হবে।’