‘অমিত শাহ আপনি বাংলাকে যে সোনার বাংলা করার কথা বলেন, এটাই কি আপনার সেই সোনার বাংলা?’, শীতলকুচি কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন অভিষেকের

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : শীতলকুচির বিধানসভার জোড় পাটকাঠি ও পাগলপারী এলাকায় দুটি মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি থেকে শুরু করে দোষারোপের পালাও চলছে। আর এই ঘটনা গুলিকে কেন্দ্র করে অমিত শাহকে কটাক্ষ করে টুইট করেছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তিনি টুইট করে জানিয়েছেন,’ভোটের সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে কোচবিহারের ৫ জনের। অমিত শাহ আপনি বাংলাকে যে সোনার বাংলা করার কথা বলেন, এটাই কি আপনার সেই সোনার বাংলা?’

কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

এদিন সকাল থেকেই শীতলকুচির বিধানসভায় একাধিক অশান্তির খবর আসে। সকালেই ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিতে নিহত হন এক ১৮ যুবক।

তারপর শীতলকুচির ১২৬ নম্বর আমতলি বুথের বাইরে অশান্তির জেরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আচমকাই গুলি সিআরপিএফের গুলি চালানোর ঘটনায় মৃত্যু চার ব্যক্তির। এলাকাবাসীর দাবি বিনা প্ররোচনায় ভোটারদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, প্রত্যেকেই তৃণমূল কর্মী। বিজেপির বিরুদ্ধে বাহিনীকে কন্ট্রোল করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। তার দাবি, মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য হয়েছে। উনি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে রাখুন, মারধর করুন। যার জন্য কিছু শ্রেণীর লোক, বোম নিয়ে তেরে যাচ্ছে। তাই এই ঘটনা ঘটেছে।

শীতলকুচির ঘটনায় কমিশনে রিপোর্ট দিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন, ‘ ওই বুথে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে অশান্তি হচ্ছিল। দুই পক্ষের হাতাহাতিতে আক্রান্ত হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুথে ঢুকে ইভিএম ভাঙচুর, হোম গার্ড কে আক্রমন করে কিছু এলাকাবাসী। সেই সময় অশান্তি থামাতে গেলে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ঝামেলা হয়। তাই আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।’ এই ঘটনায় চারজন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ ওই বুথের বাইরে গুজব ছড়ানো হয়। তারপরেই গ্রামবাসীদের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছ থেকে বন্দুক ছিনতে যাওয়ার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যার জেরে বাধ্য হয়ে গুলি চালায় বাহিনী।’