দুয়ারে সরকারের পর ‘পাড়ায় সমাধান’, প্রকল্প দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ রাজ্য সরকারের

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : দুয়ার ছাড়িয়ে পাড়ায়! গত দুমাসে ভোট পূর্ব বাংলায় বেশ সাফল্যে পেয়েছে শাসক দলের ‘ দুয়ারে সরকার ‘ প্রকল্প। মোটামুটি ভোটের আগে রাজ্যের মানুষের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে যেতে যে উদ্যোগ নিয়েছিল তৃণমূল, তা বাস্তবায়িত হয়েছে। তার পর একে একে সূচিত হচ্ছে আরও কয়েকটি প্রকল্পের। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে রাজ্যের মানুষ শিবিরে এসে একাধিক বিষয়ে দাবি বা অভিযোগ জানিয়েছিলেন।

এরকম অভিযোগের তালিকায় এই মুহূর্তে প্রায় কাজ রয়েছে ১২০০। প্রথম দু দফায় সেসব কাজের সমাধানের জন্যই চলতি মাসে ‘ পাড়ায় সমাধান ‘ প্রকল্পের মধ্যে ফেলে সেসবের নিষ্পত্তি করতে নামছে রাজ্য সরকার।ডিসেম্বরের শেষ দিকে, ‘ দুয়ারে সরকার ‘ এ বেশ ভালো পরিমাণ সাফল্য পাওয়ার পর রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন ‘ পাড়ায় সমাধান ‘ এর কথা।

ঠিক হয়েছিল সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি অফিসাররা পাড়ায় বা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে দ্রুত পরিষেবা এবং সমাধান দিয়ে আসবেন। মানুষের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছোনোর জন্যই যে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প তা বুঝতে পারছেন সকলেই। গত দুমাস ধরে ‘ দুয়ারে সরকার ‘ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রায় একমাস আগে ঘোষিত হলেও এখনো সঠিক গতিতে শুরু হয়নি ‘ পাড়ায় সমাধান ‘।

ভোটের আগের সময় কমছে হতে। তাই এবার দ্রুত সমাধানের কাজে নামতে এবং দফতর গুলিকে কাজে নামতে সচেষ্ট হয়েছে নবান্ন। ‘ পাড়ায় সমাধান ‘ প্রকল্পের জন্য জমা পড়া ‘ ওয়ার্ক অর্ডার ‘ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। তার সঙ্গে মুল্যনির্ধরণ ও করে দিয়েছে রাজ্য, মোটামুটি অধিকাংশ প্রকল্পের মূল্যমান রাখতে হবে ৫ লক্ষর কম।

এবার কাজের মধ্যেও সুবিধার জন্য বেশ কয়েকটি ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ক অর্ডার ৫ থেকে ৫০ লক্ষের মধ্যে হলে কাজ অবশ্যই শুরু করতে হবে ২৬ সে জানুয়ারির মধ্যে।দুয়ার ছাড়িয়ে পাড়ায়! কাজ খুব বেশ বড় প্রকল্পের হলে সেগুলিকে ‘ সাব প্রজেক্ট’ হিসেবে ভাগ করে নিতে হবে কাজের সুবিধার জন্য। নবান্নে বৈঠকে ‘ পাড়ায় সমাধান ‘ এর সিদ্ধান্ত জানান স্বরাস্ট্রসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদি। বৈঠক শেষে নবান্ন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে , পাড়ায় পাড়ায় যেসব কাজের অর্ডার আসবে সেগুলির মূল্য ৫ লক্ষের মধ্যে হলে তা সরাসরি অনুমোদন পাবে বিডিওর কাছ থেকে অনুমানিক হিসেবের তালিকার জন্য থাকছেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়র। আর প্রকল্প যদি বেশি বড় হয়ে থাকে, তাহলে টাকার অনুমোদনের সুবিধার্থে ভাগ করে নেওয়া হবে একাধিক ‘ সাব প্রোজেক্ট’ এ।

জেলাশাসকের প্রাথমিক অনুমোদন নিয়ে শুরু হবে কাজ। আর প্রকল্পের মূল্য বেশি হল তাতে সময় লাগবে একটু বেশি। প্রথাগত নিয়ম মেনে এগোনোর জন্য। রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে মাত্র আর কদিন বাকি। তারপরই শুরু হবে ভোটের প্রচার এবং ভোট। তার আগে রাজ্য বাসীর কাছে প্রতিটি পড়া, রাস্তা, আলো, জল এসব জিনিসের কাজ করিয়ে নিচ্ছেন মমতা সরকার। ইতোমধ্যে দুয়ার সরকার থেকে শুরু করে চোখের আলো র মত প্রকল্প গুলি যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে মানুষের মনে।

সেই দিক থেকে ভোটের আগের ভাগে পূর্ব প্রকল্প গুলির মতোই ‘ পাড়ায় সমাধান ‘ সফল হলে তার ইতিবাচক প্রভা পড়তে পারে ভোটব্যাংকে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশ। তবে এর বিপরীত প্রমাদ ও গুনছেন আরও একদল। রাজ্যে ৩৯ হাজার পাড়া রয়েছে। প্রতিটি পড়ারই কিছু না কিছু অভিযোগ, চাহিদা আছে।যদি কাজ সুষ্ঠ ভাবে শুরু হয় এবং ভোটের আগে একাধারে সব কাজ গুলি সমাধান করা না যায়,তাহলে আবার পাড়া ভেদে উল্টো প্রভাবও ফেলতে পারে ভোটে। তবে এখনও সমীক্ষা বলছে ভোটের আগে এসব একাধিক প্রকল্প ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে নির্বাচনের ভোটবক্সে।