সঙ্কল্প যাত্রা ঘিরে রণক্ষেত্র রাজ্য, থানা ঘেরাও, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, আটক ২০০ বিজেপি কর্মী I UBG NEWS

নিউজ ডেস্কঃ  উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন কোনও রকম রাজনৈতিক র‌্যালির অনুমতি দেওয়া হয় না। প্রশাসনের এই  নির্দেশ অমান্য করেই জেলায় জেলায় বিজয় সঙ্কল্প যাত্রা করল বিজেপি। বিজেপির সঙ্কল্প যাত্রা ঘিরে সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়াল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। যার জেরে কোথাও কোথাও তা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। থানা ঘেরা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তা ধস্তি, গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ- বাদ গেল না কিছুই।
বিজেপির বাইক মিছিল ঘিরে অশান্তি ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনায়। থানা ঘেরাও করলেন বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। পাল্টা ২০০ জন বিজেপি কর্মী সমর্থককে আটক করল পুলিস।
এদিন রাজ্যজুড়ে সাড়ে ৪ হাজার বাইক মিছিল করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল দলের তরফে। কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন সকালে বিজাপুর ও খড়দায় জমায়েত করেন বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। বাইক মিছিল বের করতে উদ্যত হন তাঁরা। সেইসময়ই দুই জায়গাতেই মিছিল আটকে দেয় পুলিস।
মিছিল নিয়ে খড়দায় পুলিসের সঙ্গে ঝামেলা হয় বিজেপি কর্মীদের। পুলিস মিছিল আটকাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিল আটকানোর প্রতিবাদে বিজাপুর ও খড়দায় থানা ঘেরাও করেন বিজেপি কর্মী, সমর্থরা।  অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে দুই জায়গায় আটক করা হয় বেশ কিছু বিজেপি কর্মী, সমর্থককে।
পাশাপাশি,  কাঁচড়াপাড়াতেও বিজেপির মিছিল নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কাঁচড়াপাড়ার কাপমোড়ে পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিজেপি কর্মীদের। অন্যদিকে মিছিল বের করতে না দেওয়ায় উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে রাস্তা অবরোধ করে বিজেপি। জিরাট রোডের উপর হরিপুরে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা।  বারাসতের রথতলা মোড়েও বাইক মিছিল আটকে দেয় পুলিস। সঙ্কল্প যাত্রা কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখানে ওখানে সমাবেশ করেন। যার মধ্যে অন্যতম বিহারে মোদীর সভা, সঙ্গে নীতীশ।

রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে আজ একসঙ্গে বাইক র‍্যালি কর্মসূচির ডাক দেয় যুব মোর্চা। মেদিনীপুর ছাড়াও রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই BJP-র ‘বিজয় সংকল্প’ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। মিছিলে যোগদানকারীদের আটক করা হয়।

কোচবিহার : 

কোচবিহারের তুফানগঞ্জে ও শীতলকুচিতেও ধরা পড়ল এক ছবি। BJP-র বাইক র‍্যালি আটকে দেয় শীতলকুচি থানার পুলিশ। অপরদিকে কোচবিহারের চান্দামারিতে BJP-র বাইক র‍্যালিতে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম হয়ে দুই BJP কর্মী কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চান্দামারির পাশাপাশি দিনহাটা নিগমনগর ঘাটপাড় এলাকায় BJP-র র‍্যালিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। একাধিক জায়গায় বাইক ভাঙচুর করার অভিযোগ তুলেছে BJP কর্মীরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।


নদিয়া :

নদিয়ার শান্তিপুর থানার ফুলিয়ায় কৃত্তিবাস মোড়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে BJP-র বাইক র‍্যালি আটকে দেয় পুলিশ। শান্তিপুর থানার পুলিশ বাধা দেয়। বাধা পেয়ে BJP -র কর্মী সমর্থকরা ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে BJP কর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। এক মহিলা নেত্রী সহ ৫ জন BJP কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শান্তিপুর থানার সামনে এরপর বিক্ষোভ দেখায় BJP কর্মী-সমর্থকরা।
আলিপুরদুয়ার :

আলিপুরদুয়ারে BJP-র বাইক মিছিল আটকে ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আটক করা হয়েছে ২৫টি মোটরবাইক। জেলার বিভিন্ন ব্লকে BJP-র বাইক মিছিল আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।  আলিপুরদুয়ার জেলা BJP-র দপ্তর থেকে BJP-র আলিপুরদুয়ার জেলার সাংগঠনিক সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার নেতৃত্বে আজ মিছিল বের হয়। বাবুপাড়ায় মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এর প্রতিবাদে আলিপুরদুয়ার চৌপথি অবরোধ করে BJP কর্মীরা। তারপর আলিপুরদুয়ার থেকে পুলিশ এসে গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা সহ ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। BJP-র অভিযোগ, পুলিশ জেলার প্রতিটি ব্লকে বাইক র‍্যালি আটকে দিয়েছে।

জলপাইগুড়ি :

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের বেলাকোবা থেকে আজ BJP-র বাইক মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন হামলা চালায় বলে অভিযোগ। BJP কর্মীদের মারধর করা হয়। জখম হয় একাধিক BJP কর্মী। হামলার পর কয়েকজন BJP কর্মী নিখোঁজ। BJP নেতাদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে হামলা হয়।
তবে ধূপগুড়িতে আজ BJP-র বাইক র‍্যালি নিয়ে কোনও গন্ডগোল হয়নি। মিলপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয় বাইক র‍্যালি। দমকল কেন্দ্রের সামনে ব়্যালিটি আটকে দেয় পুলিশ। ময়নাগুড়িতেও র‍্যালি আটকায় পুলিশ। সেখানেও কোনও গোলমাল হয়নি।

পশ্চিম বর্ধমান:

BJP-র রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি অনুযায়ী আজ রানিগঞ্জের রেলস্টেশন থেকে রাজবাড়ি নজরুল স্ট্যাচু পর্যন্ত বাইক মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে মিছিল শুরু হওয়ার সাথে সাথেই রানিগঞ্জ থানার পুলিশ তা আটকে দেয়। BJP কর্মীরা পায়ে হেঁটে মিছিল করে স্ট্যাচুর সামনে পৌঁছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মোতায়েন করা হয় পুলিশ। জোর করে অবরোধ তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

আসানসোলেও BJP-র বাইক মিছিল আটকাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেধে যায় BJP-র কর্মী ও সমর্থকদের। পুলিশ পালটা লাঠিচার্জ করে। মাথায় লাঠির বাড়ি খেয়ে জখম হন আসানসোল উত্তর থানার OC শান্তনু অধিকারী। আজ দুপুরে বারাবনির নুনি এলাকা থেকে বাবুল সুপ্রিয়র নেতৃত্বে বাইক র‍্যালি শুরু হয়। গৌরান্ডি আসানসোল রোড ধরে বাইক র‍্যালি শুরু হয়। বারাবনির আমডিহা মোড়ে র‍্যালি পৌঁছলে পুলিশ আটকায়। এরপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ।


পুরুলিয়া:

পুরুলিয়াতেও BJP-র ‘বিজয় সংকল্প’ মিছিলকে বাধা দেয় পুলিশ। পুরুলিয়া শহরে ঢোকার মুখেই আটকে দেওয়া হয় মিছিলটি। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া BJP নেতা বাপ্পা চ্যাটার্জি বলেন, “আমাদের যেকোনও কর্মসূচিতেই পুলিশ বাধা দেয়। শাসকদলের হয়ে কাজ করে পুলিশ। এই কর্মসূচির আগাম অনুমোদন নিলেও অযথা আমাদের হয়রানি করছে পুলিশ।” শহরে ঢোকার মুখে উড়ালপুলের শেষ প্রান্তে পুলিশ ব্যারিকেড করে বাধা দেয় তাদের। ঘটনায় বাঁকুড়া-পুরুলিয়া ৬০ (এ) জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল প্রায় ঘণ্টাখানেকের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে।

উত্তর ২৪ পরগনা:

বারাসত থেকে ‘বিজয় সংকল্প’ মিছিল শুরু হওয়ার সময় বারাসত থানার IC দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে হাজির হয়। বিনা অনুমতিতে বাইক মিছিল করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। দলীয় কর্মসূচিতে এসেও ফিরে যেতে বাধ্য হয় BJP-র সমর্থকরা। BJP-র বারাসত সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি শংকর দাস বলেন, “পুলিশ বাইক মিছিলের অনুমতি না দেওয়ায় আমরা এই কর্মসূচি বাতিল করেছি। পুলিশ আমাদের কিছু বিধিনিষেধের কথাও বলে। তা সত্ত্বেও আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাইক মিছিল করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ তা করতে দেয়নি।”

মুর্শিদাবাদ:

বহরমপুরে দেখা গেল অন্য ছবি। BJP কর্মীদের সামনে পুলিশের বাধা ধোপে টিকল না। গেল না মিছিল আটকানো। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পরও শহরে মিছিল বার করে রাজ্য সরকার ও পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল BJP-র কার্যকর্তারা। পুলিশের বাধায় সাময়িকভাবে মিছিলে প্রভাব পড়লেও পুলিশের বাধা অগ্রাহ্য করে মিছিল করে তারা।
হুগলি:

হুগলির তারকেশ্বর, খানাকুল ও আরামবাগে BJP-র পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা নাগাদ বাইক মিছিল শুরু করে BJP কর্মী সমর্থরা। মিছিল শুরুর সাথে সাথেই পুলিশ আটকে দেয়। তারপরই রাস্তা অবরোধ করে তারা। পুলিশ এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বাইক মিছিল আটকানোর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে BJP সমর্থকরা। তারকেশ্বর BJP সম্পাদক জগন্নাথ দাস বলেন, “প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে শাসকদল চক্রান্ত করে BJP-কে রুখতে চাইছে। তাই আমাদের আজকের ঘোষিত বাইক মিছিলকে পুলিশ দিয়ে আটকাবার চেষ্টা করছে।”

পূর্ব মেদিনীপুর:

রামনগর, দিঘাসহ বিভিন্ন জায়গায় BJP-র বাইক মিছিল আটকানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় বাইক মিছিল করার অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছিল পুলিশের তরফে। তারপরও মিছিল বেরোলে বাধা দেওয়া হয়। বাইকের চাবি খুলে নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ BJP-র।


শিলিগুড়ি:

আজ সকাল থেকেই শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় বাইক আটকে তল্লাশি শুরু হয়। BJP-র পতাকা লাগিয়ে পথে নামা বাইক চালকদের আটক করতে শুরু করে পুলিশ। শিলিগুড়ি ছাড়াও মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি, ঘোষপুকুরেও বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড করে তল্লাশি চলে। সকালে শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ায় জমায়েত হতে শুরু করে BJP কর্মীরা। হাজির হয় পুলিশ। বাদানুবাদের পর BJP-র শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ রায় চৌধুরিসহ দলীয় কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়।


মালদা :  BJP-র সংকল্প র‍্যালিতে অন্যান্য জেলার মতো একই ছবি দেখা গেছে মালদাতেও। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে র‍্যালি শুরু হলেও সেসব আটকে দেয় পুলিশ। তবে এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে BJP নেতা-কর্মীদের বচসার কোনও খবর নেই। 

আজ বেলা ১২টায় দলের জেলা কার্যালয় থেকে বাইক মিছিল শুরু হয়। কিন্তু নেতাজি মোড়ে পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। এর প্রতিবাদে BJP কর্মী ও সমর্থকরা নেতাজি মোড়ে বিক্ষোভ দেখান। পথ অবরোধ করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যে সেই অবরোধ তুলে নেন।

মালদা শহরের পাশাপাশি আজ পুরাতন মালদার মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিনা হাট, হবিবপুর, বামনগোলা, কালিয়াচক ৩, হরিশ্চন্দ্রপুর ১ সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় BJP-র বাইক মিছিল আটকে দেয় পুলিশ।