কথা রেখেছে সরকার, জল সরবরাহ প্রকল্পে খুশি নন্দীগ্রাম I UBG NEWS

ওয়েব ডেস্কঃ : পরিবর্তনের ধাত্রীভূমি নন্দীগ্রামে পানীয় জলের সমস্যা নতুন নয়। বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ। এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিবেশ ও পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সে কথা জানতেন। তাই স্থানীয় মানুষের কথা পৌঁছে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কানে। জলসরবরাহ প্রকল্পের রূপরেখাও তৈরি করে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের সেই দাবিতে এবার সিলমোহর দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ফের স্পষ্ট করে দিলেন নন্দীগ্রামের প্রতি তঁার আবেগ–ভালবাসার দিকটাও। বুধবার হাওড়া থেকে নন্দীগ্রাম ১ ও ২ এবং নন্দকুমার ও চণ্ডীপুর ব্লকের নলবাহিত পানীয় জলসরবারহ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে প্রশাসনের উদ্যোগে এর জন্য পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, ‘‌রাজ্যের সার্বিক উন্নতি চান মুখ্যমন্ত্রী। তাই রাজ্যের তরফে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের উপকারের কথা ভেবেই। রাজ্যের মানুষও তা জানেন। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের সুবিধা–অসুবিধাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়। নন্দীগ্রামেও তার প্রমাণ বারবার দিয়েছি আমরা। খুব তাড়াতাড়িই নন্দীগ্রাম–সহ বাকি ৩ ব্লক এলাকার বাসিন্দাদের জল কষ্ট লাঘব হবে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে জলপ্রকল্প তৈরি হলেই এলাকাবাসীকে সেই কষ্ট থেকে রেহাই দিতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে পানীয় জল।’‌
গেঁওখালির রূপনারায়ণ নদী থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল এনে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের সাহায্যে পরিশুদ্ধ করা হবে। তারপর সেই জল প্রতিটি ব্লকের জলাধার থেকে পাইপলাইনের সাহায্যে পৌঁছে দেওয়া হবে বাড়ি বাড়ি। জলপ্রকল্প চালু হলে এই পদ্ধতিতে ১৩ লক্ষ মানুষের জলসঙ্কট মিটবে। প্রকল্প নির্মাণে ব্যয় হবে ১৪৮৮.‌৫ কোটি টাকা। ৩ বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর। পানীয় জলের জন্য নন্দীগ্রাম–সহ সংলগ্ন ৪ ব্লকের বহু বাসিন্দাকে অগভীর টিউবয়েলের জলের ওপর নির্ভর করতে হয়। গ্রীষ্মে ভূগর্ভস্থ জলে টান পড়লে বাসিন্দাদের পানীয় জল সংগ্রহ করতে নাজেহাল হতে হয়। গ্রীষ্মকালে প্রায় প্রতিদিনই এমন সমস্যায় পড়তে হয় এই অঞ্চলের মানুষকে। তঁারা এ ব্যাপারে বহুবার বহু জায়গায় জানিয়েছেন। পূর্বতন বাম সরকারেরও এই সমস্যার কথা অজানা ছিল না। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকলেও বাম সরকার এ ব্যাপারে তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেনি বলে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন। এ ছাড়া উন্নয়নের জন্যই এলাকায় দিনদিন বহুতলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ঘনবসতি ও বহুতল এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের সমস্যা প্রকট হচ্ছিল। এ ক্ষেত্রে নলবাহিত জলপ্রকল্প চালু হলে সেই সমস্যাও চিরতরে মিটে যাবে বলে মনে করেন এলাকার মানুষ।
নন্দীগ্রামের এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী, জেলাশাসক পার্থ ঘোষ–সহ জনস্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বলেন, ‘‌এই জলপ্রকল্পের শিলান্যাস করতে আমাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। সহজে এই কাজ হয়ে যায়নি। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রকল্পের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য দপ্তরের মন্ত্রী–সচিবদের কাছে প্রতি সপ্তাহে খোঁজ নিতাম। সেই কাজটা আমি নিষ্ঠার সঙ্গে করতে পেরেছি এবং মুখ্যমন্ত্রীও তার ছাড়পত্র দিয়েছেন। এটা আমাদের বড় প্রাপ্তি। নন্দীগ্রামের মানুষও তাই আজ খুশি।’‌ এদিনের অনুষ্ঠানে এলাকার দর্জিদের জন্য ক্লাস্টার তৈরির কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘‌আপাতত রেয়াপাড়া কমিউনিটি হলে দর্জিদের জন্য ক্লাস্টার চালু করা হবে। সেখানে সেলাই মেশিন থেকে যাবতীয় সরঞ্জাম সরকারিভাবে সরবরাহ করা হবে। তার মধ্যে ব্লক প্রশাসন ২–৩ একর জমি দিয়ে দিলে স্থায়ী ক্লাস্টার তৈরি করে দেওয়া হবে। তা হলে আর কলকাতা বা মেটিয়াবুরুজ ছুটতে হবে না এলাকার দর্জি ভাইদের।’‌ এলাকার বাসস্ট্যান্ড এবং হকার পুনর্বাসনের কাজও দ্রুত মিটবে বলে এদিন জানান মন্ত্রী।
বাড়ি বাড়ি ছাড়াও জলের সংযোগ দেওয়া হবে চার ব্লকের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, মন্দির–মসজিদেও। রূপনারায়ণ নদীর গর্ভে পর্যাপ্ত জলও রয়েছে। তাই জলের চাহিদা মিটবে সহজেই। সব মিলিয়ে জলের জন্য আর হিমশিম খেতে হবে না স্থানীয়দের। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন জন পিছু ৭০ লিটার জল সরবরাহ করা হবে। নদী থেকে তোলা হবে জল। নানা পর্যায়ে ধাপে ধাপে সেই জলকে পরিস্রুত করা হবে। সেই জলকে বারবার পরীক্ষা করার পর তবেই তা পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। সুষ্ঠুভাবে জল সরবরাহ করার জন্য ৪টি রিজার্ভারও তৈরি করা হবে। জল সরবরাহ প্রকল্প পেয়ে খুশি নন্দীগ্রামের মানুষ।