প্রিয়রঞ্জনের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করলো তৃণমূল পরিচালতি রায়গঞ্জ পৌরসভা, উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ নিয়ে তরজায় কংগ্রেস ও তৃণমূল

উত্তর দিনাজপুর, ২ অক্টোবরঃ গান্ধী জন্মজয়ন্তীর দিনে রায়গঞ্জের প্রাক্তন প্রয়াত সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর মূর্তি উদ্বোধন হলো রায়গঞ্জে।

 শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রায়গঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে রায়গঞ্জ শহরের শিলিগুড়ি মোড়ে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ব্রোঞ্জের পূর্ণাবয়ব মূর্তি উদ্বোধন করেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা চিত্তরঞ্জন রায়।

 যদিও এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কংগ্রেস বিধায়ক সহ কংগ্রেস নেতৃত্ব কে আমন্ত্রণ না জানানোয় বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

রায়গঞ্জের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর নাম। ১৯৯৯ ও ২০০৪ সালে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করে জয়ী হন তিনি।

শুধুমাত্র সাংসদ নন, কেন্দ্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্বের পদ সামলেছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। ইন্দিরা গান্ধী ও পরবর্তীতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আস্থাভাজন হয়েছিলেন প্রিয়রঞ্জন। রাজনীতির পাশাপাশি ফুটবল বিশ্বেও যথেষ্ট খ্যাতি ছিল তাঁর।

ফুটবলঅন্ত প্রাণ হিসেবে সুপরিচিত এই বঙ্গসন্তান দীর্ঘদিন ধরে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সান্মানিক সভাপতির পদও অলঙ্কৃত করেছিলেন।

 তবে মন্ত্রী থাকাকালীনই ২০০৮ সালের ১২ ই অক্টোবর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সেই থেকেই কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন প্রিয়রঞ্জন। ২০১৭ সালের ২০ শে নভেম্বর প্র‍য়াত হন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান এই জননেতা।

গভীর রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বুদ্ধি সম্পন্ন এই ব্যক্তিত্বকে এবার সম্মান জানালো রায়গঞ্জ পৌরসভা। শুক্রবার রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড়ে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ব্রোঞ্জের আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করেন রায়গঞ্জ বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক চিত্তরঞ্জন রায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস।

 অনুষ্ঠানে রায়গঞ্জ পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শুভেন্দু মুখার্জি সহ পুরসভার অন্যান্য কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

রায়গঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, “প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি ছিলেন প্রকৃত জন নেতা। রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন দেশ ও দশের সেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।

জনগণের সেবায় কাজ করতে করতেই তিনি হঠাৎ ২০০৮ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর স্মরণে এবং তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতেই পৌরসভার পক্ষ থেকে এই মূর্তি বসানো হলো।”

যদিও এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কংগ্রেস নেতৃত্বকে আমন্ত্রন না জানানোয় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত বলেন,”তৃণমূলের পুরবোর্ড সমাজবিরোধীদের সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে তৈরী হয়েছে।

 শহরবাসীর রায়ে নয়। সেই দুষ্কৃতিদের মদতদাতা তৃণমূল নেতাদের হাত দিয়ে এই জননেতার মূর্তি উন্মোচন হলো। এটা লজ্জার।

প্রিয়দার এইমসের স্বপ্ন পূরণ করতে দেননি তৃণমূল নেত্রী। মানুষ এই দ্বিচারিতা মানবে না। তৃণমূল প্রিয়দাকে সামনে রেখে ভোট পেতে চাইছে।

কিন্তু তাতে কোনো লাভ হবে না। যে প্রাক্তন বিধায়ক আজ প্রিয়দার মূর্তির উদ্বোধন করলেন, সেই চিত্তরঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ আছে। এটা প্রিয়দার প্রতি অসম্মান। “

এই বিষয়ে তৃণমূল নেতা তথা রায়গঞ্জ পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার পাল্টা জানান,”যারা প্রিয়দাকে কালো পতাকা দেখিয়েছিলো, প্রিয়দার আদর্শ কে জলাঞ্জলী দিয়ে সিপিএমের সঙ্গে অনৈতিক জোট করেছে,তাদের আমন্ত্রন জানানো হয় নি।”