পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে বিডিও অফিসের গোডাউন লুঠ

উত্তর দিনাজপুর, ২৭ সেপ্টেম্বরঃ পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে ইট পাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি, বিডিও অফিসের গোডাউনের তালা ভেঙে ত্রিপল, হাঁড়ি সহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী লুঠ করলো উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের জলবন্দী এলাকার মানুষেরা।

 ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর চোপড়া থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

টানা বৃষ্টির জেরে উত্তরদিনাজপুর জেলার বিভিন্ন নদীর জল বেরে যাওয়ার কারণে চোপড়া ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। চোপড়ার ডগ নদীর জল বেরে যাওয়ায় প্লাবিত হয় মের্ধাবস্তি, আরালি, বিলাসি, হাসখালী সহ বহু এলাকা।

বহু এলাকায়, বাড়িতে জল ঢুকে যাওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকলেও, প্রশাসন তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন নি বলে অভিযোগ ওঠে।

শনিবার চোপড়া ব্লকের মের্ধাবস্তি এলাকায় ত্রাণ বিলি করতে যান বিডিও। কিন্তু সবাইকে ত্রাণ বন্ঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ত্রাণ না পেয়ে ক্ষিপ্ত মানুষজন রবিবার ত্রাণ সামগ্রীর জন্য বিডিও অফিসে এসে বিক্ষোভ দেখান।

 একসময় ত্রাণ না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন দুর্গত মানুষেরা। উত্তেজিত হয়ে গোডাউনে ইট পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন তারা। এরপর গোডাউনের তালা ভেঙে ত্রাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যান এলাকার প্লাবন দুর্গত মানুষেরা।

এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনার কথা পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলে, চোপড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্হলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সমস্ত ঘটনা পর্যালোচনা করে তদন্ত শুরু করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, এলাকার তৃণমূল নেতা মহম্মদ হানিফ বলেন, ওই এলাকা লাগাতার কয়েকদিন ধরে বর্ষণের জেরে বন্যা প্লাবিত। ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি। বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা। কার্যত জলের তলায় ফসল। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীরা।

সেখানে চোপড়া ব্লকের বিডিও পৌঁছে মুষ্টিমেয় হাতেগোনা কয়েকজনকে ত্রিপল সহ ত্রাণ সামগ্রী দিলেও বেশীরভাগ অসহায় এবং দুর্গত মানুষদের জন্য জোটেনি ত্রাণ।

 সেই ক্ষোভকে সঙ্গী করেই এলাকার দুর্গতরা এদিন সদলবলে বিডিও অফিসে পৌঁছে এই ঘটনা ঘটান বলে জানিয়েছেন মহম্মদ হানিফ।

পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে না দেখে কেন মুষ্টিমেয় কয়েকজনের মধ্যে ত্রাণ বিলি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারাও। এই ঘটনার জন্য বিডিওকেই দায়ী করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

যদিও চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চোপড়া থানার আইসিকে অভিযোগ জানানো হয়েছে। লুঠপাটের ঘটনায় কারা জড়িত ছিল তা তদন্ত করে পুলিশকে দেখতে বলা হয়েছে।

 অন্যদিকে, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে পঁচিশটি পলিথিন ও পাঁচ কুইন্টাল করে জি আর সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন তিনি।

 এর পরও সমস্যা হলে বিডিও সহ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা সবকিছু খতিয়ে দেখে সেই অনুপাতে ত্রাণ সরবরাহ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।