Ad
তথ্যপ্রযুক্তি

কী এই বিটকয়েন? ক্রিপ্টোকারেন্সিই বা কী?

এই বিজ্ঞাপনের পরে আরও খবর রয়েছে

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ক্রিপ্টোমুদ্রা। বেশ জনপ্রিয় একটি শব্দ, ইংরেজিতে যাকে বলে বাজওয়ার্ড। যত দিন যাচ্ছে, তত বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। শুধু শব্দের ফেরে নয়, বাস্তবেই। পৃথিবীর জনপ্রিয়তম ক্রিপ্টোমুদ্রার নাম বিটকয়েন।

বিটকয়েনের বর্তমান মূল্য ৩৬,৩৪১ মার্কিন ডলার (১ জুন, ২০২১ তারিখে কয়েনবেস অনুযায়ী)। বাংলাদেশী টাকায় যার মান দাঁড়ায় ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৯৮৮ টাকা! যদিও এলন মাস্কের টুইট কাণ্ডের পর বর্তমানে অনেকটা পড়তির দিকে আছে বিটকয়েনের দাম। তবে আগ্রহ কমেনি মানুষের।

Ad

কী এই বিটকয়েন? ক্রিপ্টোকারেন্সিই বা কী? জানতে হলে একটু পেছনে ফিয়ে গিয়ে প্রথমে বোঝা দরকার, মুদ্রা আসলে কী?


মুদ্রার গল্প আমাদের মোটামুটি জানা। সভ্যতার সূচনালগ্নেই মানুষ টের পেয়েছে, প্রয়োজনীয় সবকিছু সে একা উৎপাদন করতে পারবে না। বিনিময় করতে হবে।

একটা গ্রামের কথা ভাবা যাক। একজন কৃষক হয়তো ধান চাষ করেন, আরেকজন পুকুরে চাষ করেন মাছ। ধান ভাঙিয়ে চাল হয়, রান্না করে হয় ভাত। প্রথম কৃষক ভাতের সাথে মাছ খেতে চান। আবার দ্বিতীয় কৃষক মাছ খেতে চান ভাতের সাথে। দুজনে তাই বিনিময় করেন, এক কেজি চালের বদলে একটি মাছ। একইভাবে অন্যান্য কৃষকরা চাষ করেন আলু, পটল ও বিভিন্ন শাক-সবজি। এরকম নানা জিনিস শুধু বিনিময় করে তাল রাখা যায় না। বিনিময়ের জন্য তাই একটি আদর্শ বিনিময়যোগ্য বস্তু দরকার। এভাবেই সূচনা হয় মুদ্রা বা অর্থের। অর্থের বিনিময়ে সবাই প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে পারে, আমরা যাকে বলি লেনদেন বা ট্রানজেকশন।

বর্তমানে অর্থের নিয়ন্ত্রণ করে সরকার। কোন দেশে কী পরিমাণ অর্থ বাজারে থাকবে, তা সে দেশের সরকার ঠিক করে দেয়। এই অর্থ দিয়ে কী কী কেনা যাবে, ঠিক করে দেয় তা-ও। ওসব জিনিস ছাড়া আর কিছু সেই অর্থ দিয়ে কিনলে তা হবে বেআইনি। কেউ বেআইনি কিছু কিনছে কি না, সেটাও সরকার খেয়াল রাখে। এক্ষেত্রে সরকারকে সাহায্য করে ব্যাংকগুলো।

বর্তমানে সাধারণ প্রতিটি ট্রানজেকশন বড় বড় কোম্পানি, ব্যাংক ও সরকারের নজরদারির আওতায় থাকে। আপনার ব্যালেন্স চুরি করতে না পারলেও কী কিনছেন, কেন খরচ করছেন অর্থ, তা তারা জানতে পারে চাইলেই। অর্থাৎ, সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ থাকে সরকারের হাতের মুঠোয়। এ নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে, সবার চোখ এড়িয়ে নিজের মতো করে লেনদেনের জন্যই উদ্ভব ক্রিপ্টোমুদ্রার।

বর্তমানে হাজারেরও বেশি ক্রিপ্টোমুদ্রা আছে বাজারে। ইথিরিয়াম, লাইটকয়েন, রিপল, স্টেলার, ডোজ কয়েন এদের মধ্যে অন্যতম। আর, সবচেয়ে জনপ্রিয় নিঃসন্দেহে বিটকয়েন।

এরকম একটি ডিজিটাল মুদ্রার স্বপ্ন মানুষ দীর্ঘদিন দেখেছে। যা ক্যাশের মতো কাজ করবে, পেছনে কোনো চিহ্ন রেখে যাবে না। ক্যাশের সবচেয়ে বড় সুবিধা এটাই। আপনি চাইলেই ইচ্ছেমতো কিছু কিনতে পারবেন, যেকোনো লেনদেন করতে পারবেন, কেউ চিহ্ন ধরে ধরে আপনাকে সহজে খুঁজে বের করতে পারবে না। ডিজিটাল কারেন্সি বা ব্যালেন্স, যেমন ক্রেডিট কার্ডের ব্যালেন্সের সমস্যা হলো, আপনার লেনদেনের খবর থাকবে ব্যাংকের সার্ভারে। সেই চিহ্ন ধরে সহজেই ট্র্যাক করা যাবে আপনাকে। ক্রিপ্টোমুদ্রার চিন্তাটা এভাবেই এসেছে। ক্যাশের মতো, হাতে থাকলেই বেনামে খরচ করা যাবে, তাৎক্ষণিক, কিন্তু লেনদেন করা যাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে, বিশ্বজুড়ে।

এর একটা বড় সমস্যা আছে। নিয়ন্ত্রণ যদি কারও হাতেই না থাকে, তাহলে লেনদেনে দু’পক্ষ যে সঠিক জিনিস দিচ্ছে, সেটা নিশ্চিত করবে কে? এই সমস্যা কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অনেক ভুগিয়েছে। একটা নামও আছে এর- বাইজেন্টাইন জেনারেল সমস্যা।

গল্পটা এমন: বাইজেন্টাইন সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেল ঘিরে রিখেছেন একটি শহরকে। যুদ্ধে জেতার জন্য সবাইকে একসাথে আক্রমণ করতে হবে। আর নাহয় আক্রমণ করাই যাবে না। কারণ, একজনও যদি আক্রমণ না করে, মারা যাবে বাকিদের অনেক সৈন্য। আমরা যেমন অনলাইনে কেউ কাউকে বিশ্বাস করি না, ঠিক সেরকম, তারাও কেউ কাউকে বিশ্বাস করেন না। কারণ, আক্রমণের পক্ষে মত দিয়ে কেউ হয়তো শেষ পর্যন্ত আক্রমণ না-ও করতে পারেন। তাহলে উপায়?

উপায় একটাই- আক্রমণের সিদ্ধান্ত একজনকে নিতে হবে। সেই একজনকে দায়িত্ব নিতে হবে বাকিদের। নিশ্চিত করতে হবে, সবাই যেন সিদ্ধান্ত মেনে চলে। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে আপনি কিছু কেনাকাটা করলে ব্যাংক যেমন আপনার মূল্য পরিশোধের দায়িত্ব নেয়, সেরকম। আবার, কেউ যদি এই দায়িত্ব নেয়ই, তাহলে অর্থের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে তার হাতে। মানে, যে সমস্যা এড়ানোর জন্য ক্রিপ্টোমুদ্রার কথা ভেবেছে মানুষ, বিশ্বাসের সমস্যার সমধান করতে গিয়ে ঘুরে-ফিরে বৃত্তের সেই আগের বিন্দুতেই ফিরে যেতে হচ্ছে তাকে। এই সমস্যা নিয়ে সবাই যখন হাবুডুবু খাচ্ছে, তখনই ভূতের মতো উদয় হলেন সাতোশি নাকামোতো।


কে এই সাতোশি নাকামোতো? এ প্রশ্নের উত্তর আজও কেউ জানে না। অনেক খুঁজেছে তাকে মানুষ। কিন্তু খুঁজে পায়নি। কেউ কেউ বলেন, নাকামোতো একজন নন, একদল মানুষ। এ নিয়েও হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সাতোশি নাকামোতো লিখে গুগল করলে যে মানুষের ছবি আসে, তিনি ডোরিয়ান সাতোশি নাকামোতো। তাকে নিয়ে প্রথম ২০১৪ সালের ৬ মার্চ নিউজউইক-এ একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়- দ্য ফেইস বিহাইন্ড বিটকয়েন। বাংলা করলে দাঁড়ায়, বিটকয়েনের পেছনের মানুষ। লেখক লিয়া ম্যাকগ্র্যাথ গুডম্যান।

ডোরিয়ান একজন জাপানি-আমেরিকান। বসবাস করেন ক্যালিফোর্নিয়ায়। কিন্তু তার জন্ম জাপানের বেপ্পু শহরে। জন্মের সময় তার নাম ছিল সাতোশি নাকামোতো। গুডম্যান দেখান, ২৩ বছর বয়সে, ১৯৭৩ সালে ডোরিয়ান নিজের নাম বদলে রাখেন ‘ডোরিয়ান প্রেন্তিস সাতোশি নাকামুতো’, যদিও তিনি সাধারণত লিখেন ‘ডোরিয়ান এস. নাকামুতো’।

ক্যালিফোর্নিয়ার পোনোমায় অবস্থিত ক্যাল পোলি ইউনিভার্সিটিতে তিনি পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন ক্লাসিফায়েড ডিফেন্স প্রজেক্টে। প্রজেক্ট শেষে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক তথ্য সেবাদাতা কোম্পানিতে কাজ করেন কম্পিউটার প্রকৌশলী হিসেবে। গুডম্যান দাবী করেন, ডোরিয়ান তার কাছে নিজের পরিচয় স্বীকার করে বলেছেন, “ওসবের সাথে আমি এখন আর যুক্ত না। আর, এসব নিয়ে আমি আলোচনা করতেও চাই না। সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ এখন মানুষের হাতে। আমার এখন আর ওসবের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।”

এ লেখা প্রকাশের সাথে সাথে হুলস্থুল পড়ে যায় পৃথিবীজুড়ে। পরে এ নিয়ে ডোরিয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ভেবেছেন, গুডম্যান তাকে ক্লাসিফায়েড ডিফেন্স প্রজেক্ট নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। সেজন্যই অমন জবাব দিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালের ৭ মার্চ সাতোশি নাকামুতো ছদ্মনামের মানুষটি পিটুপি ফাউন্ডেশনের ফোরামে তার একাউন্ট থেকে ছোট্ট একটি মেসেজ দেন, “আমি ডোরিয়ান নাকামুতো নই।”

ডোরিয়ানকে ছাড়াও আরও অনেকের দিকেই আঙুল তুলেছে মানুষ। এর সবই জল্পনা-কল্পনা। কোনোটিরই সুনিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাতোশি নাকামুতো তাই আজও কেবলই একটি ছদ্মনাম। এই মানুষটি যে আসলে কে, কেউ জানে না।


ছদ্মনামের অজানা এই মানুষটি ২০০৮ সালে সমাধান দেন বাইজেন্টাইন জেনারেল সমস্যার- ব্লকচেইন। ব্লকচেইন মূলত একটি ডিস্ট্রিবিউটেড ওপেন লেজার। সহজ ভাষায়, কিছু ব্লক দিয়ে তৈরি উন্মুক্ত হালখাতা। যেকোনো লেনদেন এই খাতায় তৎক্ষণাৎ লেখা হয়ে যায়। অফিসে যেমন হালখাতা থাকে সেরকম। তবে ব্লকচেইনের এ হালখাতা ইন্টারনেটে সবার জন্য উন্মুক্ত।

বাইজেন্টাইন জেনারেল সমস্যার হিসেবে বললে, একজন জেনারেল কখন কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা তৎক্ষণাৎ দেখতে পাবে সবাই। কাজেই, কেউ চাইলেই আক্রমণ না করে বসে থাকতে পারবে না। আক্রমণ না করলে বাকিরাও সেটা জেনে যাবে তৎক্ষণাৎ।

এটি নিয়মিত হালনাগাদের কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো সিস্টেম মিলে ক্রিপ্টোমুদ্রার মাধ্যমে পারিশ্রমিক দেয়া হয় স্বেচ্ছাসেবীদের।

ব্যাপারটি ভালোভাবে বোঝার জন্য একটা উদাহরণের কথা ভাবা যাক। ধরুন, আপনি কাউকে বিটকয়েন পাঠাবেন। আপনার বিটকয়েন ও সেই মানুষটির ঠিকানা একটি ব্লকের মধ্যে নেয়া হবে, তারপর একে ঢুকিয়ে দেয়া হবে হ্যাশ-এ। অতিসরলীকরণ করে বললে, হ্যাশ একধরনের এনক্রিপশন। এটি লেনদেনকে সুরক্ষা যেমন দেয়, তেমনি নিশ্চিত করে এর অথেন্টিসিটি। যাই হোক, ব্লকটিতে চেইন বা হালখাতার আগের ব্লকের ঠিকানা থাকবে। যে মুহূর্তে ব্লকটি যুক্ত হয়ে যাবে আগের ব্লকের সাথে, সম্পূর্ণ হবে লেনদেন। বাস্তবে, একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের সবগুলো লেনদেনের তথ্য একটি ব্লকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়, ব্লকটি চেইনে যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে লেনদেন সম্পূর্ণ হয়ে যায়। লেনদেন যে হয়েছে, সে কথা সবাই জেনে যায়, কিন্তু লেনদেনকারীদের ব্যাপারে কেউ কিছু জানতে পারে না। এভাবে ব্লকের পর ব্লক যুক্ত হয়ে গড়ে উঠে ব্লকচেইন।

ব্লকচেইনের প্রথম পরীক্ষামূলক ব্যবহারের নাম বিটকয়েন, এমন এক মুদ্রা, যার নিয়ন্ত্রণ কারো হাতে নেই!


বিটকয়েন উৎপাদিত হয় মাইনিং-এর মাধ্যমে। সহজ ভাষায়, কিছু অ্যালগরিদম সমাধান করে নতুন একটি ব্লক তৈরি করার পর ব্লকচেইন সিস্টেম যখন এর সত্যতা নিশ্চিত করে, তখন তৈরি হয় নতুন বিটকয়েন। এই পদ্ধতিকেই বলে বিটকয়েন মাইনিং।

বর্তমান ব্লকচেইন ব্যবস্থায় ২ কোটি ১০ লাখ বিটকয়েন মাইন করা যাবে, সময় লাগবে আনুমানিক ২০৪০ সাল পর্যন্ত। তারপর আর নতুন বিটকয়েন তৈরি করা যাবে না। পরিমাণ সীমিত বলেই দিন দিন বাড়ছিল বিটকয়েনের দাম, পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল এর ব্যবহারও। বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠানও লেনদেন শুরু করেছে ক্রিপ্টোমুদ্রায়।

কিছুদিন আগে, এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জানা যায়, এলন মাস্কের টেসলা ইনকর্পোরেশন ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন কিনেছে। টেসলা জানায়, তাদের সব ধরনের পণ্য, ইলেকট্রিক কার, সোলার প্যানেল ইত্যাদি সবকিছু বিটকয়েন দিয়ে কেনা যাবে। সাথে সাথে অনেক বেড়ে যায় বিটকয়েনের দাম। এর কিছুদিন পর, গত ২৭ এপ্রিল এলন মাস্ক একটি টুইট করেন। সেখানে তিনি জানান,

টেসলা বিটকয়েনে আর কোনো ধরনের পণ্য বিক্রি করবে না। বিটকয়েন মাইনিং এবং লেনদেনে যে পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানী খরচ হচ্ছে, এবং দিন দিন বিটকয়েন ব্যবহারকারী সংখ্যা বাড়ায় জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার যে হারে বাড়ছে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। বিশেষ করে কয়লার কথা বলতে হয়। কয়লা জ্বালানোর ফলে যে ধরনের গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয়, তা জীবাশ্ম জ্বালানীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।

ক্রিপ্টোমুদ্রা আইডিয়া হিসেবে দারুণ। এবং আমাদের ধারণা, এর ভবিষ্যতও বেশ আশাপ্রদ। কিন্তু পরিবেশ নষ্ট করার মতো মূল্য চুকিয়ে এ ভবিষ্যতের দিকে এগোনোর উপায় নেই।

টেসলা কোনো বিটকয়েন বিক্রি করবে না। বিটকয়েন মাইনিং যদি সাস্টেইনেবল এনার্জির দিকে এগোতে পারে, তাহলে আমরা আবার বিটকয়েন ব্যবহার শুরু করব। এছাড়াও অন্যান্য যেসব ক্রিপ্টোমুদ্রায় প্রতি লেনদেনে বিটকয়েনের ১ শতাংশ বা তারচেয়ে কম শক্তি খরচ হয়, আমরা সেরকম ক্রিপ্টোমুদ্রা খুঁজছি।

এলন মাস্ক এখানে বিটকয়েন মাইনিংয়ে জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার বলতে বুঝিয়েছেন, যে পরিমাণ মানুষ একসঙ্গে বিটকয়েন মাইনিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেজন্য প্রচুর পরিমাণ বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয়। আর এই বিদ্যুৎ তৈরি হয় জীবাশ্ম জ্বালানী পুড়িয়ে। আর প্রতিমুহূর্তে আরও, আরও বেশি মানুষ এ নিয়ে উঠে-পড়ে লাগছে, এবং প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে বিদ্যুৎ খরচ ও জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহার। টেসলা নিজে যথাসম্ভব জীবাশ্ম জ্বালানী খরচ কমাতে চাচ্ছে। এজন্য তারা সোলার প্যানেলের পাশাপাশি সোলার রুফ পর্যন্ত বিক্রি করছে। পাশাপাশি তারা যে ইলেকট্রিক কার বিক্রি করছে, সেটাও তো অনস্বীকার্য।

এলন মাস্কের এরকম টুইট করা কতটা ঠিক হয়েছে, সেই বিতর্ক থামছেই না। এ প্রসঙ্গে একটি টুইটে বিন্যান্স ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সিইও শাংপেং ঝাও লিখেছেন,

আপনি যখন বিদ্যুৎ খরচ করে গাড়ি চালান, তখন তা পরিবেশবান্ধব। আর বিদ্যুৎ খরচ করে আপনি যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কার্যকর অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন, সেটা হয়ে যায় পরিবেশের জন্য হুমকি।

বলা বাহুল্য, মাস্কের টুইটে ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিটকয়েন ও অন্যান্য ক্রিপ্টোমুদ্রা। মে-এর ১৩ তারিখে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বিটকয়েনের দাম পড়ে গেছে ১২ শতাংশ। সেই সঙ্গে ইথিরিয়ামের দাম পড়ে গেছে ১৪ শতাংশ এবং স্বয়ং এলন মাস্কের ক্রিপ্টোমুদ্রা ডোজ কয়েনের দাম পড়ে গেছে ২০ শতাংশ।

এ মুহূর্তে বিটকয়েন ও অন্যান্য ক্রিপ্টোমুদ্রার দাম প্রতিমুহূর্তে ওঠা-নামা করছে প্রচণ্ডভাবে। যেমন, এ লেখা লেখার সময়ও বিটকয়েনের দাম কমেছে। লেখার শুরুতে যে বিটকয়েনের দাম ছিল ৩,০৮০,৯৮৮ টাকা, লেখা শেষ করতে করতে এর দাম হয়ে গেছে ৩,০৬৮,৫৩৪ টাকা। অর্থাৎ, এর মধ্যেই দাম কমে গেছে প্রায় ১২ হাজার টাকা! তারপরেও, গতকালের তুলনায় আজ বিটকয়েনের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে!

বিটকয়েন ও অন্যান্য ক্রিপ্টোমুদ্রার দাম আগেও এরকম অনেক কমে গিয়েছিল। কিন্তু ক্রিপ্টোমুদ্রা সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছে। যে মুদ্রা মুক্ত লেনদেনের কথা বলে, সবার চোখ এড়িয়ে

আরও পড়ুন