মঙ্গলের মাটিতে পা নাসার মহাকাশ যানের, প্রধান উদ্দেশ্য হবে মঙ্গলে প্রাণের খোঁজ করা

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : মিনিট সাতেকের আতঙ্ক কাটিয়ে অবশেষে মঙ্গল গ্রহের মাটি স্পর্শ করল নাসার মঙ্গলযান ‘পারসিভারেন্স রোভার’। লাল গ্রহের মাটি স্পর্শ করার মুহূর্তে এর ভবিষ্যৎ ঠিক কী হবে, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। সফলভাবেই সেই পরীক্ষায় উতরে গিয়েছে নাসার তৈরি পৃথিবীর এই দূত। সাত মাসের সফর শেষে অবশেষে বৃহস্পতিবার রাত ২টো ২৩ মিনিটে নিরাপদেই লাল গ্রহের মাটি স্পর্শ করল নাসার মহাকাশযান পারসিভ্যারেন্স রোভার।

এই খবর পৌঁছতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন নাসার বিজ্ঞানীরা। এরপর গবেষকদলের এক সদস্য জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। আমরা সকলেই খুব উত্তেজিত। পারসিভারেন্সেরপাঠানো প্রথম ছবি সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হয়। সেগুলি দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সকলে। এদিন শুধু নাসার বিজ্ঞানীরাই নন, গোটা বিশ্ব অপেক্ষা করছিল এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী থাকার জন্য। নিরাশ করেনি নাসার তৈরি পৃথিবীর এই দূত।

মঙ্গলের মাটিতে নাসার মহাকাশ যান। সাত মাস পর বৃহস্পতিবার রাতে মঙ্গলে অবতরণ করে রোভার ‘পারসিভিয়ারান্স’।

আপাতত তার কাজ হবে মঙ্গলে প্রাণের খোঁজ করা। এই ল্যান্ডার মঙ্গলের মাটিতে ওড়াবে ড্রোন। মঙ্গলে এত বড় মহাকাশ যান এর আগে যায়নি। লালগ্রহের মাটিতে ঘুরে রোভার যদি প্রাণের খোঁজ পায়, তা হলে ইতিহাসের এক নয়া অধ্যায় তৈরি হবে পারসিভিয়ারান্সের হাত ধরে। আর সেই ইতিহাসের সঙ্গে এক সারিতে উচ্চারিত হবে দুই বাঙালি-সহ চার ভারতীয় বংশোদ্ভূতের নাম।

স্বাতী মোহন, অনুভব দত্ত, সৌম্য দত্ত, জে বব বলরাম- এই চার ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে মাঝের দু’জন বাঙালি। অনুভব পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের ছেলে, সৌম্যর সঙ্গে যোগ রয়েছে বর্ধমানের। বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানী লাল গ্রহের বুকে যে প্রাণ খোঁজার স্বপ্ন দেখেছেন, তাঁদের সেই স্বপ্নকে গতি দিয়েছেন এই বাঙালিরা।

দিনরাত তাঁদের গবেষণার ‘শক্তিশেল’ই উড়ান নিয়েছিল সাত মাস আগে। বৃহস্পতিবার রাতে সে মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করল। এই অপারেশনের প্রধান স্বাতী মোহন জানান, ভারতীয় সময় ৩টে ৫৫ মিনিটে এই সফল অবতরণ হয়। ইতিমধ্যেই মঙ্গল থেকে যে সাদা কালো ছবি পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, সেখানে প্রচুর ধুলো, পাথরের দেখা মিলেছে। সঙ্গে রোভারের ছায়া।