জঙ্গিযোগে গ্রেফতার কলেজ ছাত্র নাজমুস

মুর্শিদাবাদ, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ শুক্রবার শেষ রাতে বাড়ি ঘিরে ফেলেছিল সেন্ট্রাল ফোর্স। পরিবারের লোকদের জাগিয়ে এনআইএর গোয়েন্দারা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় কলেজ ছাত্র নাজমুস সাকিবকে। শনিবার সকাল থেকেই তাই জটলা ডোমকলের গঙ্গাদাসপাড়ায়। টিভির খবরে ততক্ষণে গোটা মহল্লা জেনে গেছে, জঙ্গিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পাড়ার আপাত নিরীহ, মসজিদে আজান দেওয়া নাজমুসকে।

বসন্তপুর কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাজমুস সাকিব। তাঁর দাদা রিজওয়ান জানান, শুক্রবার রাত তিনটে চল্লিশ মিনিট নাগাদ বাড়ির দরজায় জোর আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে যায় তাঁদের। বাইরে বেড়িয়ে দেখেন পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলেছে সেন্ট্রাল ফোর্স। নিজেদের এনআইএর লোক বলে জানিয়ে দরজা খুলতে বলা হয় তাদের।

জঙ্গিযোগের অভিযোগে ধৃত নাজমুস সাকিব-এ দাদা রিজওয়ান জানান, ‘‘আমি গেট খুলে দিতেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আমার ভাই নাজমুসকে তুলে নিয়ে চলে যায় কয়েকজন। এরপর ওর ঘর তল্লাশি করে বেশ কিছু বইপত্র, কাগজ সব নিয়ে যায়। আমাকে দিয়ে কিছু কাগজে সই করায়। তারপর চলে যায় ওরা।

তখনও জানতাম না কী কারণে আমার ভাইকে গ্রেফতার করা হল। পরে টিভি দেখে জানলাম জঙ্গিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আমার ভাইকে। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। যে ছেলে নিজের কলেজ-পড়াশোনা আর মসজিদে আজান দেওয়া ছাড়া আর কিছু জানত না, তাকে কেন গ্রেফতার করা হল?’’

নাজমুসের বাড়িতে যখন অভিযান চালানো হয়, একই সময় এনআইএর একটি দল পৌঁছে গিয়েছিল ডোমকলের রানিনগরে আবু সুফিয়ানের বাড়িতে। পাড়ায় শিক্ষিত পরিবার হিসেবেই খ্যাতি এই পরিবারের। বেশিরভাগ সদস্যই স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক। পরিবার সূত্রে জানা গেছে ৪৪ বছরের আবু সুফিয়ান চার-পাঁচ বছর আগে দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানে মাদ্রাসায় পড়াতেন।

তবে ফিরে আসার পর প্রথম কিছুদিন দর্জির কাজ করেন। পরে বাড়িতেই লেদ কারখানা খুলেছিলেন। তাঁর প্রতিবেশীদের দাবি, খুব কম কথা বলেন আবু। তেমন মেলামেশা করতেন না কারও সঙ্গেই। শনিবার ভোরে তার বাড়িতেও গোয়েন্দা দল পৌঁছে যায়। আল কায়দা জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করা হয় আবু সুফিয়ানকে।

আলকায়দা জঙ্গি সন্দেহে কেরলের এর্নাকুলাম থেকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে রানিনগরের আরেক বাসিন্দা মুর্শিদ হাসানকে। কেরলে রাজমিস্ত্রির কাজ করত সে। মুর্শিদের মা আম্বিয়া বিবি জানান, ছেলে যে জঙ্গিযোগে গ্রেফতার হয়েছে, সে খবর জানতেনই না তিনি। পড়শিদের কাছে প্রথম শোনেন এই কথা।

তারপর টিভি দেখে বিষয়টা পরিষ্কার হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে আম্বিয়া বিবি বলেন, ‘‘এক বছর আগে কেরলে কাজে গিয়েছিল আমার ছেলে। পেটের দায়ে। মাঝে মধ্যে ফোনে কথা হত। কাল রাতে শুনলাম পুলিশ ওকে ধরেছে। আজ টিভি দেখে আমার মাথা ঘুরছে। খুবই গরীব আমরা। আমার ছেলে তো খেটে খায়।“

এই দারিদ্রতারই সুযোগ নিচ্ছে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। এমনটাই বক্তব্য এলাকার সাধারণ মানুষের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকার মোহেই জঙ্গি দলে নাম লেখাচ্ছে সীমান্ত এলাকার মানুষ।