পাহাড় ইস্যুতে বিজেপির সাথে দূরত্ব বেড়েছে জিএনএলএফের, বিধানসভার আগেই পাহাড় চায় স্থায়ী সমাধানঃ মন ঘিসিং

নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি : রাজ্যে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পাহাড় চায় স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার পাহাড় সমস্যা সমাধানে সেভাবে উৎসাহ দেখাচ্ছেনা। কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করুক তারা কি ভাবছে পাহাড় নিয়ে। দিল্লী থেকে ফিরে বৃহস্পতিবার বাগডোগরা বিমান বন্দরে এই মন্তব্য করেছেন জিএনএলএফের সভাপতি মন ঘিসিং।

তাহলে কি পাহাড় ইস্যুতে বিজেপির সাথে দুরত্ব বাড়ছে জি এন এল এফের? এদিনের মন ঘিসিং এর মন্তব্যে তা কিন্তু অনেকটাই স্পষ্ট। পাহাড়ে দার্জিলিং বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে জিএনএলএফের সমর্থন নিয়ে জয়লাভ করে বিজেপি প্রার্থী নীরজ জিম্বা। লোকসভা নির্বাচনেও পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থন নিয়ে টানা তিনবার পাহাড় থেকে জয়লাভ করে বিজেপি।

কিন্তু পরবর্তীতে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সেভাবে সহযোগিতা না পেয়ে বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তৃনমূল কংগ্রেসকে সমর্থন জানায় মোর্চা। মোর্চার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় জিএনএলএফের সমর্থন নিয়ে দার্জিলিং বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়লাভ করে বিজেপি। জিএনএলএফের দাবী ছিল রাজনৈতিকভাবে পাহাড়ের স্থায়ী সমাধান।

জিএনএলএফের সভাপতি মন ঘিসিং এদিন বলেন, পাহাড় সমস্যা সমাধানে সেভাবে উৎসাহ দেখাচ্ছে না কেন্দ্র। তাই বাধ্য হয়েই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করতে দিল্লীতে যেতে হয়েছে তাদের। পাহাড়ের মানুষ তাকিয়ে আছে কেন্দ্রের দিকে। তারা এখনও ধৈর্য ধরে আছে। অথচ কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত একপাও এগোয়নি। দিল্লী পাহাড় সমস্যা নিয়ে কি ভাবছে তা জানতে চায় পাহাড়। আর বেশি সময় হাতে নেই। ২০২১ এর আগেই পাহাড় সমস্যা নিয়ে স্পষ্ট করতে হবে কেন্দ্রকে। ভোটের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর হজম হচ্ছেনা। তবুও তারা আশাবাদী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পাহাড়ের স্থায়ী সমাধান নিয়ে ততপর হবেন। সেটা কমপক্ষে ষষ্ঠতফশিল হতে হবে। নইলে সব পথই খোলা আছে জিএনএলএফের কাছে। অন্যথা হলে জিএনএলএফ বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করবে কিনা তা নিয়ে সেভাবেমুখ খোলেনি মন ঘিসিং।

এদিকে পাহাড় সমস্যা সমাধানে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ৭ আগষ্ট দিল্লীতে এই বৈঠক হতে পারে জিটিএ এবং রাজ্যের প্রতিনিধিদের সাথে। সেই ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সরকারীভাবে এখনও ডাক পায়নি জিটিএ বলে জানিয়েছেন জিটিএর মুখপাত্র সুরজ শর্মা।