শীলার কোল আলো করে জন্মালো ৩ রয়েল বেঙ্গল টাইগার, করোনা আবহে নতুন অতিথিদের আগমনের খুশির হাওয়া সাফারি পার্কে

শিলিগুড়ি, ১২ আগস্টঃ ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মায়ের কোল আলো করে জন্ম নিল ফুটফুটে তিন সন্তান। ওরা বাঘের বাচ্চা। বুধবার সকালে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কে জন্ম হয়েছে তিন শাবকের। জন্ম দিয়েছে সাফারি পার্কের রয়াল বেঙ্গল টাইগার শীলা। সদ্যজাতদের নিয়ে বর্তমানে সুস্থই আছে মা। করোনা আবহের মাঝেই এমন খুশির খবরে আত্মহারা বেঙ্গল সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

এর আগে রয়াল বেঙ্গল টাইগার শীলা প্রসব করেছিল তিনটে সন্তান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের নাম রেখেছিলেন ইকা রিকা কিকা। কিন্তু পরবর্তীতে শরীরে সংক্রমেণের কারনে মারা যায় ইকা। মা শীলার স্নেহেই ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে রিকা আর কিকা। ওদের বাবা স্নেহাশিষকেও নিয়ে যাওয়া হয়ে অন্যত্র। স্নেহাশিষ থাকা কালিনই বেঙ্গল সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হয়েছিল আরও এক পুরুষ রয়াল বেঙ্গল টাইগার বিভানকে। কিন্তু রিকা কিকা বড় হয়ে যাওয়ার পর গত কয়েক মাস আগে শীলার সাথে একই এনক্লোজারে ছাড়া হয় বিভানকে।

এরপরই স্নেহাশিষের অবর্তমানে শীলা আর বিভানের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, আর এই বন্ধুত্ব শেষ পর্যন্ত গড়ায় প্রেমে। দুজনের একান্ত মেলামেশায় সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়ে রিকা কিকার মা শীলা। বিষয়টি আচ করতে পেরেই শীলাকে বিভানের কাছ থেকে সরিয়ে দেয় সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সন্তানসম্ভবা শীলার শারীরিক অবস্থার নজরদারী শুরু হয় সাফারি পার্কের চিকিৎসক দের তত্বাবধানে। অনুমান করা হয়েছিল চলতি সপ্তাহেই শীলা জন্ম দিতে পারে সন্তান দের। সেই অনুমানকে সত্যি করেই বুধবার ভোরে শীলা জন্ম দেয় তিন ফুটফুটে সন্তানের। বেঙ্গল সাফারি পার্কের অধিকর্তা ধরম দেও রাই জানিয়েছেন ভোর পৌনে ৫ টা নাগাদ শীলা জন্ম দিয়েছে তিনটি সন্তানকে। জন্মের পর থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই মায়ের দুধ খেয়েছে তিন শাবক। তবে শাবকদের শীলা আগলে রাখায় লিঙ্গ নির্ধারন করা সম্ভব হয়নি। তবে শাবক সহ মা সুস্থই আছে।

এই মুহুর্তে বেঙ্গল সাফারি পার্কে নতুন তিন শাবককে নিয়ে বাঘের সংখ্যা দাড়াল ৭। করোনার আবহে অনেক হারানোর মাঝেও অন্যতম প্রাপ্তি ৩ রয়াল বেঙ্গল টাইগার শাবকের জন্ম। নতুন অতিথিদের আগমনে বর্তমানে খুশির হাওয়া বইছে বেঙ্গল সাফারি পার্কে। আশা করা হচ্ছে এবারও শীলার এই তিন সন্তানের নাম রাখবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে সাফারি পার্ক খুললেই নতুন অতিথিদের দেখতে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ।