শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ৭২৫ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলের

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক: বিজেপিতে যোগ দিয়েই ‘তোলাবাজ ভাইপো’কে হাঠানোর শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই এ বার কয়েক’শো কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনল তৃণমূল কংগ্রেস।শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে প্রকাশ্য সভায় জেলা তৃণমূলের অন্যতম কো-অর্ডিনেটর, বিধায়ক অখিল গিরি শনিবার সরাসরি শুভেন্দুর নাম না করেই বলেন, ‘শুধু পরিবহণ দফতরে ৭২৫ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির ফাইল সামনে এসেছে।’যদিও, বিজেপি এসব গায়ে মাখতে নারাজ। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারীকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার দিন থেকে শুভেন্দু তার পুরনো দল ও সরকার সম্পর্কে বহু অনিয়ম, দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুলছেন। সাংসদ অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে তাঁকে ‘তোলাবাজ ভাইপো’ বলে অভিযোগ শানিয়েছেন। এ বার এই প্রথম তৃণমূলের মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর দিকে ইঙ্গিত করে টাকার অঙ্কে বড় অভিযোগ আনা হল। বিজেপি অবশ্য পাল্টা বলেছে, এটা শুভেন্দুকে ‘কৌশল’ করে ফাঁসানোর চেষ্টা।

শুধু পরিবহণ দফতরের কেলেঙ্কারি নয় তৃণমূলনেতা অখিলবাবু এ দিন নাম না করে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগে সরব হন। তাঁর মন্তব্য, ”অনেক জায়গায় ফ্ল্যাট কিনেছ। কাঁথিতে চারটে ফ্ল্যাট। কলকাতায় পাঁচটি ফ্ল্যাট। পরপর সব কেলেঙ্কারি বেরোচ্ছে।” অখিলবাবু আরও বলেন, ”তৃণমূলে ছিলে, ১০ বছর ধরে পাইলট কার, হুটার বাজিয়ে গাড়ি নিয়ে ঘুরেছ। ৪০ জন পুলিশ পাহারা দিয়েছে। দল তোমাকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। দলের খেয়ে বড় হয়েছ।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগেই রাজ্যপালকে চিঠি লিখে শুভেন্দু আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতে পারে। অখিলের মন্তব্যের প্রেক্ষিতেও বিজেপি সেই মিথ্যা কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানোর অভিযোগই করছে। বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, ”শুভেন্দু তো তৃণমূল সরকারেরই পরিবহণ মন্ত্রী ছিলেন। এতদিন ওই দফতরের কেলেঙ্কারি সামনে এল না। শুভেন্দু বিজেপিতে আসতেই সব বেরোচ্ছে! বোঝাই যাচ্ছে এ সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

সেই প্রসঙ্গ টেনে অখিল এ দিন বলেন, ”নাম আমি ধরতে চাই না। তবে তোমাকে চ্যালেঞ্জ করছি, নন্দীগ্রাম নয়, দক্ষিণ কাঁথি থেকে দাঁড়াও। যদি তুমি জিততে পার, বুঝব তোমার অনেক ক্ষমতা।” উল্লেখ্য, দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রটি কার্যত ‘অধিকারী গড়’ হিসেবেই পরিচিত। শিশির অধিকারী, শুভেন্দু নিজে এবং দিব্যেন্দু অধিকারীও এই কেন্দ্র থেকেই প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ভোটে এই কেন্দ্রে জেতেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
তৃণমূল এবং বিজেপি-র কর্মসূচি ঘিরে সপ্তাহখানেক ধরে উত্তপ্ত রামনগর। বিজেপি কর্মীরা রামনগর কলেজের সামনে টিএমসিপি কর্মীদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল দু’দিন আগে। তারই প্রতিবাদে এ দিন রামনগর কলেজের সামনে সভা করে টিএমসিপি।