তৃণমূলে আরও এক টলি অভিনেত্রী সায়ন্তিকা, দিদির হাত শক্ত করতেই তার যোগদান

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : তৃণমূলে তারকা-যোগ অব্যাহত। বুধবার তৃণমূল ভবনে গিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন টলিউড অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন দুই প্রাক্তন আমলাও।

গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলে টলিউডের বিভিন্ন পরিচিত মুখ যোগ দিচ্ছেন। শাসক শিবিরের থেকে খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও যুযুধান বিজেপি-ও তারকাদের যোগদান করাচ্ছে। যেমন সোমবারই বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন টলিউডের অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তার আগেও বিজেপি-তে অন্যান্য তারকা যোগ দিয়েছিলেন। জল্পনা, এই তারকাদের এবার ভোটের ময়দানেও প্রত্যক্ষ ভাবে নামাবে দু’দল। অর্থাৎ, এঁদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করানো হবে।

বুধবার তৃণমূল ভবনে গিয়ে জোড়াফুল পতাকা হাতে তুলে নেন সায়ন্তিকা। তাঁকে দলে স্বাগত জানান সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ব্রাত্য বসু। সেখানে অভিনেত্রী বলেন, ‘‘খুব একটা গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। শিখে নেব। আমাদের দিদিকে ধন্যবাদ। মানুষের পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমি যেন ভাল ভাবে পালন করতে পারি। তাঁর আস্থার মর্যাদা যেন রাখতে পারি। গত ১০ বছর দিদির পাশেই ছিলাম। আগামী দিনেও মানুষের সেবা করব।’’

রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে সায়ন্তিকা বলেন, ‘‘এখন বাংলার মানুষের নিজের ইচ্ছে প্রকাশ করার সঠিক সময় এসেছে। সকলের কাছে আমার আবেদন, এগিয়ে এসে দিদির পাশে দাঁড়ান। বাংলা কিন্তু নিজের মেয়েকেই চায়।’’

সাম্প্রতিক অতীতে মূলস্রোতের তারকা-যোগের ক্ষেত্রে তৃণমূলই পথিকৃৎ। বেশ কয়েক বছর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টলিউডের নায়ক-নায়িকাদের বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁরা জিতেওছেন। বস্তুত, এখনই তৃণমূলের সাংসদ হলেন শতাব্দী রায়, দেব, মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহানের মতো তারকারা। তৃণমূলের বিধায়ক এবং সাংসদ ছিলেন প্রয়াত তাপস পালও।

যেমন সাংসদ ছিলেন সন্ধ্যা রায় এবং মুনমুন সেন। সেখানে বিজেপি-তে তারকা-নির্ভরতা এ বারেই বেশি। যদিও বহু বছর আগে ‘রামায়ণ’ এবং ‘মহাভারত’ সিরিয়ালের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভোটের রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিল বিজেপি-ই। দীপিকা চিকলিয়া (সীতা), নীতীশ ভরদ্বাজ (কৃষ্ণ) বা অরবিন্দ ত্রিবেদী (রাবণ) প্রমুখকে লোকসভা ভোটে দাঁড় করিয়েছিল তারা। ওই অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সাংসদও হয়েছিলেন। কিন্তু সে ভাবে পরে আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকেননি। কার্যত হারিয়েই গিয়েছেন।

প্রাক্তন আমলাদেরও ভোটে লড়ানোর বিষয়টি শুরু করেছিল বিজেপি। তার পর সেই পথে হেঁটেছে তৃণমূল। অতীতেও দীপক ঘোষের মতো প্রাক্তন আমলাকে বিধানসভা ভোটে দাঁড় করিয়েছিলেন মমতা। মহিষাদল আসন থেকে তিনি জিতেওছিলেন। কিন্তু পরে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর অবনিবনা শুরু হয়।

মমতার সঙ্গেও দূরত্ব বাড়ে। তবে তার পরেও প্রাক্তন আমলারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। যেমন কিছুদিন আগেই পেশা ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর। এখন দেখার, আরও কোনও আমলা তৃণমূলে যোগ দেন কি না। যেমন দেখার, সায়ন্তিকার পর আরও কোনও টলি-তারকা লড়তে নামেন কি না বিধানসভা ভোটের ময়দানে। প্রসঙ্গত, সায়ন্তিকাকে তৃণমূল ভবনে নিয়ে আসেন মমতার ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়।