রাজনীতিরাজ্য

স্যান্ডো গেঞ্জির যেদিন পকেট তৈরি হবে, সেদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন দিদিমণি :শুভেন্দু অধিকারী

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : সদ্যই গোয়া সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আসন্ন ২০২২-এ গোয়ার বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচনকেই ‘পাখির চোখ’ করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর তিনদিনের গোয়া সফর যে বিশেষ তাত্‍পর্যপূর্ণ তা অস্বীকার করতে পারছে না রাজনৈতিক মহল।

মমতার গোয়া সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একের পর এক তোপ দেগেছেন বিরোধী নেতারা। এ, বার সেই আগুনে যেন ঘি ঢাললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

অধিরকারী পুত্র এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ হেনে বলেন, “স্যান্ডো গেঞ্জির যেদিন বুক পকেট তৈরি হবে, সেদিন প্রধানমন্ত্রী হবেন দিদিমণি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরোটাই ওঁর আকাশকুসুম কল্পনা।” কার্যত, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে এ হেন বাক্যবাণে আক্রমণ ভাল চোখে দেখছেন না রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, গোয়াতে তৃণমূলের কোনও সংগঠন নেই। তাই তৃণমূল চাইলেও কিছু করতে পারবে না। এমনকী, মুখ্য়মন্ত্রীর সফরকে ‘হালকা চালেই’ দেখছে পদ্ম নেতাদের একাংশ।

এদিকে, গোয়াতে তৃণমূল সুপ্রিমো পৌঁছনোর আগেই ঘাসফুলের তরফে অভিযোগ ওঠে যে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া ব্যানার ছেড়া হয়েছে। এমনকী, মমতা গোয়ার পানাজি বিমানবন্দর ত্যাগ করার পরেই সেখানে কিছুজন এসে কালো পতাকা হাতে, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকে বলে অভিযোগ। যদিও, পুলিশ তত্‍ক্ষণাত্‍ তাদের নিরস্ত করে। সূত্রের খবর, ওই বিক্ষোভকারীদের সকলেই এলাকায় বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত।

Ad

গতকালই, তৃণমূল কংগ্রেসের গোয়া শাখা টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করে। সেই ছবিতে দেখা গিয়ছিল, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi), কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তকে নিজেরা পায়ের নিচে চেপে ধরেছেন। এই ছবি সামনে আসার পর থেকেই নতুন করে গেরুয়া শিবিরে আক্রমণের মুখে পড়ে তৃণমূল। এই ঘটনার পরেই মমতার ছবি দেওয়া বেশ কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে।

এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’brien) বলেন, “দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে। আমরা সবাই জানি এটা গোয়ার সংস্কৃতি নয়।”তিনি আরও দাবি করেছেন, বিজেপি স্থানীয় ব্যবসার ক্ষতি করছে, কারণ যে ঠিকাদাররা ওই পোস্টার হোর্ডিং লাগিয়েছিল এখন সমস্ত ভাঙচুর হোর্ডিংয়ের জন্য তাদের নিজস্ব পকেট থেকে অর্থ প্রদান করতে হবে।

অন্যদিকে, কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির নেতা বিজয় সরদেশাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। আর যেহেতু গোটা ফরওয়ার্ড পার্টি বিজেপির জোট সঙ্গী, তাই বিজয় সরদেশাইকে কাছে টানতে বিজেপি বিরোধী দলগুলকে একটি জোরালো বার্তাও দিতে পারতেন মমতা। সেই সঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচনে নমোর বিরুদ্ধে মুখ হিসেবে মমতার নাম চূড়ান্ত করার জন্য সওয়াল করা যেত। সেই মতো জোড়াফুলের সঙ্গে গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির নির্বাচনী বোঝাপড়ার অঙ্কও কষতে শুরু করে দিয়েছিলেন অনেক নেতা। কিন্তু শুরুতেই হোঁচট। এখনও পর্যন্ত গোয়ার ঘরোয়া রাজনীতিতে যেমনটা শোনা যাচ্ছে, মমতার সঙ্গে দেখা করছেন না গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির নেতা বিজয় সরদেশাই।

পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়া সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর সাফ মন্তব্য, “গোয়ায় টাকা দিলে এমএলএ কিনতে পাওয়া যায়। বাংলার টাকা লুট করে এত এত মাল নিয়েই গোয়ায় যাচ্ছেন দিদি। এতে বিজেপিকে হঠানো যাবে না। তারজন্য কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।”

তৃণমূলের অবশ্য দাবি, গোয়ায় কংগ্রেসের শক্তি ক্রমেই দুর্বল হয়েছে। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো। কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন অনেক বিধায়ক। তবু নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে মরিয়া কংগ্রেসের গোয়া নেতৃত্ব। তাঁদের কথায়, বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমেছে সাধারণ মানুষের মনে। আর তাতে একমাত্র প্রতিবাদের মুখ নাকি কংগ্রেসই।

[ লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য ফলো করুন ইউবিজি নিউজ ফেসবুক পেজ । ব্রেকিং নিউজ এবং ডেইলি খবরের আপডেটে পেতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে  ]