ফের অনেক দলবদলুই ফিরতে চাইছেন তৃণমূলে, তবে গদ্দারদের চাইছেন না তৃণমূলকর্মীরা

ইউবিজি নিউজ ডেস্ক : ভোটের আগে একটা সময়ে ব্যারাকপুরে শিল্পাঞ্চলে দলবদল প্রায় রোজকার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ভোটের ফল বেরোতেই দেখা গেল, তাতে তৃণমূলের ক্ষতি তো কিছু হয়ইনি, উল্টে ভোটারদের আশীর্বাদই পেয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

ঘটনা হলো, গেরুয়া শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে দলবদলুদের অনেকেই এখন আফশোস করছেন। অনেকে ফিরতে চেয়ে তলে তলে দলের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। নিচুতলার তৃণমূল কর্মীদের অবশ্য বক্তব্য, ‘গদ্দারদের ছাড়াই জিতেছি। ওদের মানুষ চায় না। দলনেত্রী মানুষের ইচ্ছেকেই মর্যাদা দেবেন।’

এর পর মাঝে কয়েক মাসের বিরতি। বিধানসভা ভোটের আগে ফের দলবদলের হিড়িক লেগে যায়। ওই তালিকায় তৃণমূল থেকে গিয়ে বীজপুরে শুভ্রাংশু রায় যেমন বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন, তেমনই নোয়াপাড়ায় সুনীল সিং, খড়দহে শীলভদ্র দত্ত এবং পানিহাটিতে কংগ্রেস থেকে গিয়ে বিজেপির প্রার্থী হন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। এতে বিজেপি আরও তেড়েফুঁড়ে প্রচারে নেমে পড়ে। নেতাদের মুখে হামেশাই শোনা যেত, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সব আসনে জয় পাকা।

আশা করাই সার। দেখা গেল দলবদলুরা সকলে হেরেছেন। এবং হারের ব্যবধানও বেশ ভালো। মুকুল বা অর্জুন ম্যাজিক কাজ করেনি। ফল প্রকাশের দিনই নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেছিলেন, ‘কিছু গদ্দার ভোটের আগে দলবদল করে দলকে বিপাকে ফেলবে ভেবেছিল। কিন্তু আমাদের কর্মীরা সকলেই জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই দিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন।’

সেই দলবদলুদের নিয়ে ফের চর্চা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। শোনা যাচ্ছে, তাঁদের অনেকেই পুরোনো দলে ফেরার চেষ্টা করছেন। সূত্রের খবর, প্রাক্তন এক বিধায়ক ইতিমধ্যে এক তৃণমূল নেতাকে ফোন করে পুরোনো দলে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। যদিও কোনও আশ্বাস তিনি পাননি। হালিশহরের দিকে আর এক প্রাক্তন বিধায়ককে মাঝেমধ্যেই একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসতে দেখা যেত। সেখানকার দেওয়ালে ভোটের ফল প্রকাশের পরে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। কেউ আবার অনুগামীদের নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনাও শুরু করেছে।

যদিও তৃণমূলকর্মীরা এই দলবদলুদের ফেরাতে নারাজ। নোয়াপাড়ার এক তৃণমূল কর্মী বলেন, ‘অনেক হয়েছে। দলবদলুদের আর ফেরানো উচিত হবে না।’ কাঁচরাপাড়ার এক তৃণমূল কর্মীর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে আমাদের বিশ্বাস আছে। উনি ঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন।’ খড়দহের এক তৃণমূল কর্মীর ক্ষোভ, ‘দলবদলুদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার এটাই মোক্ষম সময়।’

যাকে নিয়ে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে পর্যন্ত দলবদল ইস্যুতে জলঘোলা হয়েছিল, নোয়াপাড়ার সেই প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়ে ভোটে হেরে হতাশ। সুনীল বললেন, ‘আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গেলেও কারও সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়নি। তবে এখনই তৃণমূলে ফেরার চিন্তা করছি না।’

তবে এরপরেই তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘আমি ফিরতে চাইলেই তো হবে না। ওদেরও তো নেওয়ার ইচ্ছে থাকতে হবে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকায় যিনি অলিখিত ভাবে দলের দায়িত্বে রয়েছেন, সেই নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দলে ফিরতে চেয়ে। কিন্তু দলে এ নিয়ে কোনও কথা হয়নি। দলকে জানাব। নেত্রীকে কর্মীদের আবেগের কথাও বলব। তার পরে দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা-ই হবে।’