পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়নি উলেন রায়-এর, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মুখ পুড়ল বিজেপির,সামনে উঠে এল বড় ষড়যন্ত্র

ওয়েব ডেস্ক, ৮ ডিসেম্বরঃ উত্তরকন্যা অভিযানের নামে বিজেপি গতকাল শিলিগুড়ির রাজপথে যে গুন্ডামি করেছে তার পিছনেও যে একটা বড় ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল সেটা এবার চলে এল সামনে। আর তাতেই কার্যত মুখ পুড়ল গেরুয়া শিবিরের।

সোমবার শিলিগুড়ির তিনবাতি মোড়ে পুলিশের ওপর যে হিংসাত্মক আক্রমণ চালিয়েছিল বিজেপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাতে যে অস্ত্রসমেত দুষ্কৃতিরাও অংশ নিয়েছিল সেই ভয়ংকর তথ্য সামনে চলে এল উলেন রায়ের মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই।

গতকাল বিজেপি দাবি করেছিল, পুলিশের ছোঁড়া রবার বুলেট গায়ে লেগেই বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়। পরে বিজেপির একাংশ দাবি করেছিল পুলিশ গুলি চালানোয় ওই বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ভিডিও বা ছবি সামনে আসেনি যাতে পুলিশের গুলি চালাবার দৃশ্য ধরা পড়েছে। বরঞ্চ গতকালই রাজ্য পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিজেপির কর্মী সমর্থকরা তাঁদের কর্মসূচির সময় মারাত্মক হিংসাত্মক কার্যকলাপ করে।

তাঁরা অগ্নিসংযোগ, ইট-বৃষ্টি, গুলি চালানো এবং সরকারী সম্পত্তি ভাঙচুরও করে। তারপরও পুলিশ সংযম দেখিয়ে লাঠিচার্জ বা আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার করে নি। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কেবল জল কামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহৃত করা হয়েছে। যে বিজেপি কর্মীর মৃত্যর খবর সামনে এসেছে তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে, সেই রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আর এবার সেই রিপোর্ট প্রকাশ হতেই মুখ পুড়ছে গেরুয়া শিবিরের।

আগেই রাজ্য পুলিশ একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, ‘সোমবার শিলিগুড়িতে, একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় মারাত্মক হিংসাত্মক কার্যকলাপ করেছেন। তারা অগ্নিসংযোগ, ইট-বৃষ্টি, গুলি চালানো এবং সরকারী সম্পত্তি ভাঙচুর করছেন। পুলিশ সংযম দেখিয়েছে এবং লাঠিচার্জ বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কেবল জল কামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে৷’

কারন বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, শটগান আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। আর রাজ্যের অভিজ্ঞমহল খুব ভালই জানেন পুলিশ শটগান ব্যবহার করে না। সাধারনত দুষ্কৃতিরাই এই অস্ত্রটি ব্যবহার করে। তাই এটা স্পষ্ট যে শিলিগুড়িতে বিজেপি উত্তরকন্যা অভিযানের নামে যে তান্ডব চালিয়েছে তাতে সশস্ত্র ব্যক্তিদেরও আনা হয়েছিল এবং তারাই আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালিয়েছিল। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মৃতের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা কোনও ব্যক্তির শটগান থেকে চালানো গুলির প্যালেট এসে আঘাত হেনেছিল উলেন রায়ের শরীরে। তার জেরেই তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল।

রাজ্যের ইতিহাসে এটি কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা। কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সশস্ত্র ব্যক্তিদের আনা এবং তাদের গুলি চালাতে উস্কে দেওয়ার আগে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনও দিন শোনা যায়নি। এই ঘটনা থেকেই পরিস্কার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হিংসা ছাড়ানোর দুরভিসন্ধি ছিল বিজেপির নেতাদের। রীতিমত পরিকল্পনা ছকে গতকাল গুন্ডামি করেছে বিজেপির নেতাকর্মী থেকে সমর্থকেরা। আর এই কারনেই এবার এই ঘটনার তদন্তে নামানো হচ্ছে সিআইডি-কে। রাজ্য পুলিশের আশা এরফলে সত্য প্রকাশিত হবে এবং যারা এই জঘন্য অপরাধের পরিকল্পনা এবং সেটা কার্যকর করেছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে উত্তরবঙ্গে রাজ্যের মুখ্য প্রশাসনিক ভবন ‘উত্তরকন্যা’ অভিযানে নামে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড়। আচমকা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন যুব মোর্চার কর্মীরা।

পুলিশ-বিজেপি কর্মী ধস্তাধস্তিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় এলাকায়। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ করে পুলিশের। পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে বিজেপি কর্মীরা।