নারায়ণী রেজিমেন্ট নিয়ে আরটিআইয়ের কপি দেখিয়ে কোচবিহারের সভা থেকে মোদীকে মিথ্যাবাদী বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কোচবিহার, ৬ এপ্রিলঃ নারায়ণী রেজিমেন্ট নিয়ে আরটিআইয়ের কপি দেখিয়ে মোদীকে মিথ্যাবাদী বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মাথাভাঙার গোমানি এলাকায় একটি জন সভায় বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি আরটিআইয়ের চিঠি তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। যেখানে সেনাবাহিনীতে নারায়ণী রেজিমেন্ট করার কোন পরিকল্পনা নেই বলে উল্লেখ রয়েছে। সেই চিঠি প্রথমে তৃণমূল নেত্রী প্রথমে পড়ে শোনান। পরবর্তীতে এক সাংবাদ কর্মীকে দিয়ে ওই চিঠি পড়িয়ে নেন। এরপরেই মোদী মিথ্যে কথা বলছেন বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিনই কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন নরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন নিয়ে তৃণমূল মিথ্যে কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ করেন। নির্বাচনের পরে নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন নিয়ে সরকারের ভূমিকা মানুষ দেখতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, আজও কোচবিহারে মোদী নারায়ণী রেজিমেন্ট নিয়ে মানুষকে মিথ্যে কথা বলেছেন। এই চিঠি তাঁর প্রমাণ। পাশাপাশি পুলিশে নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন করতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ব্যাটেলিয়নের হেড কোয়াটার কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে করা হচ্ছে বলেও জানান তৃণমূল নেত্রী।

এছাড়াও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা যেমন তুলে ধরেন, তেমনি ফের ক্ষমতায় এলে আরও যে প্রকল্প গুলি করার কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, সেগুলিও তিনি এক এক করে তুলে ধরেন।

নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও সরব হতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিজেপি ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী বলে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি অসমের এক অধ্যাপক সেনাবাহিনীতে নারায়ণী রেজিমেন্ট গড়ে তোলা নিয়ে কোন উদ্যোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিয়েছে কিনা, তা জানতে চেয়ে একটি আরটিআই করেন। তার উত্তরে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দেয় তাঁদের এধরনের কোন উদ্যোগ নেই।

ওই চিঠিকে হাতিয়ার করে তৃণমূল কংগ্রেস কোচবিহারে বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচনী প্রচারে এসে সেই চিঠিকেই হাতিয়ার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।