নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট আসতেই দিনহাটার প্রয়াত বিজেপি নেতা অমিত সরকারের বাড়িতে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী উদয়ন গুহ

দিনহাটা, ৩০ মার্চঃ নির্বাচন কমিশনে ক্লিনচিট পাওয়ার পরেই দিনহাটার প্রয়াত বিজেপি নেতা অমিত সরকারের বাড়িতে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী উদয়ন গুহ। দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়ে আসলেন অমিত সরকারের পরিবারকে।

উদয়ন বাবু ওই পরিবারকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “কেন অমিত আত্মহত্যার পথ বেছে নিল, তাঁকে কেউ কোন ভাবে প্ররোচিত করেছিল কিনা সেটা জানতে পুলিশকে ঘটনার সঠিক তদন্ত করা উচিত।“

গতকাল সন্ধ্যায় কোচবিহারে এসে তদন্ত করে যাওয়া নিরমাচন কমিশনের বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে বিজেপির দিনহাটা শহর মণ্ডলের সভাপতি অমিত সরকার যে আত্মহত্যাই করেছেন, সেটা উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, আত্মহত্যার আগে নানা কারণে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন অমিত বাবু। ওই কারণ গুলোর মধ্যে একটি মহিলা সম্পর্কিত বিষয়ও রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও দলে প্রার্থী হতে না পারার কারণের কথাও বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

২৪ মার্চ সকালে দিনহাটা শহরের ডাকবাংলো পাড়ায় পশু হাসপাতালের বারান্দায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় অমিত সরকারের দেহ। ওই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলে বিজেপি। ওই দিন বিজেপি কর্মীরা গোটা দিনহাটা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক ভাবে ভাঙচুর চালায়।

তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৭ টি দলীয় কার্যালয় ভেঙ্গে দেয়। ভেটাগুড়িতে এক তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বাড়ি লুটপাট করে বলে অভিযোগ। উত্তেজনা এতটাই মারাত্মক আকার নেয় যে এক সময় পুলিশের সাথে বিজেপি কর্মীদের কার্যত খণ্ড যুদ্ধ বেধে যায়। পুলিশ লাঠি চার্জ করে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। রাজ্য রাজনীতিতে ওই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।