রউফ ঝরে দিনহাটায় তৃতীয় শক্তি হয়ে যেতে পারে তৃণমূল! আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলে

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : বৈশাখ মাস চলছে কালবৈশাখী বঙ্গ জুড়ে, সঙ্গে সঙ্গে রোজ সন্ধ্যা গড়াতেই দেখা যাচ্ছে কালো মেঘ কোচবিহারের আকাশে। কিন্তু মানুষ সন্ত্রস্ত একটি ভিন্ন রকমের বিপর্যয়ের আশঙ্কায়, সেই বিপর্যয় হলো নির্বাচনী হিংসা। কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক হিংসা বিধ্বস্ত দিনহাটা মহকুমায় নির্বাচনী লড়াই হচ্ছে সবথেকে আকর্ষনীয় তথা সবথেকে কঠিন লড়াই। রাজনৈতিক হিংসার কারণে বারবার শিরোনামে থেকেছে এই মহাকুমা বিগত পাঁচ বছরে প্রথমে তৃণমূল যুব বনাম তৃণমূল মাদার তারপরে বিজেপি বনাম তৃণমূল সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল তথা বিজেপির বিভিন্ন গোষ্ঠী কোন্দল তো লেগেই আছে।

এই বিধানসভা তেই কখনো আমরা দেখেছি বিধায়কের মুখ পরিবর্তনের দাবি তৃণমূলের অন্দর থেকেই, আবার কখনো হয়েছে ২৫ নম্বর মন্ডলে বিজেপির প্রচন্ড গোষ্ঠী কোন্দল।একসময়কার তৃণমূল য়ুবার নেতা নিশীথ প্রামানিক বর্তমানে কোচবিহারের সাংসদ ও দিনহাটা বিধানসভার এইবারের বিজেপি প্রার্থী অবশ্যই একজন হেভিওয়েট নেতা সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকে রয়েছে দিনহাটার লোক নেতা বামপন্থী কমল গুহর পুত্র তৃণমূল প্রার্থী ও বর্তমানের বিধায়ক উদয়ন গুহ।নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী শেষ হয়েছে প্রচার, এইবার এই বিধানসভার সমীকরণের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো তৃণমূল প্রার্থী উদয়ন গুহর বিরুদ্ধে একটি প্রবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া, যদিও মাত্র দুবছরের সাংসদ বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষোভ।

একদিকে যেমন তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর এবং এই ক্রমের সবথেকে উল্লেখযোগ্য নাম তৃণমূল নেতা মীর হুমায়ুন কবীরের, সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংখ্যালঘু নেতা উদয়ন বাবুর বিভিন্ন রূপে এবং বিভিন্ন ভাবে লোকসমক্ষেই বিরোধিতা করেছেন, যদিও নির্বাচনের সপ্তাহ খানিক আগে একসঙ্গে হেঁটে ঐক্যবদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস দেখানোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশ এতটাই তিক্ত হয়ে রয়েছে যে তৃণমূলের অন্তর্ঘাত অবিশ্যম্ভাবী মনে করা হচ্ছে এই বিধানসভায়।প্রসঙ্গত, এই বিধানসভায় একটি বড় অংশ রয়েছে রাজবংশী সম্প্রদায়ের তথা রাজবংশী নেতা বংশী বদন বর্মনের এই বিধানসভা থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হওয়ার কথা বারবার শোনা গেছিলো রাজনৈতিক মহলে কিন্তু অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেস ভরসা রাখে উদয়ন বাবুর উপরেই, এর ফলে রাজবংশী ভোট কতটা তৃণমূলে রূপান্তরিত হয়ে ভোটবাক্সে পড়বে এই বিষয়েও সন্দেহ রয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী নিশীথ প্রামানিক, মনে করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে বিজেপির একাংশের মধ্যেই রয়েছে প্রবল ক্ষোভ। সঙ্গে, সঙ্গে তার অতিরিক্ত নিরাপত্তার জেরে সাধারণমানুষ সাংসদ অবধি সহজে পৌঁছতে পারেনা এমনটাও অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন স্তরে এবং বহু বিজেপি নেতারা চাপা সুরেই আলোচনা করছে যে ক্রমেই ভিত্তি হারিয়ে ফেলছেন এই হেভিওয়েট নেতা। সঙ্গে সঙ্গে অনেক স্থানীয় বিজেপি নেতা এই বিধানসভা আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার আশায় ছিলেন এবং বহু নেতাদের নাম সম্ভাব্য উঠে এসেছিলো বিভিন্ন এলাকায়, কিন্তু হঠাৎ করে সাংসদকে বিধানসভার টিকিট দেওয়ার কারনে অনেকেই মনে মনে ক্ষুব্দ রয়েছেন, বিশেষ করে দিনহাটা শহরের বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে অনেকেই, এবং তাদেরকে তেমনভাবে আর প্রচারে দেখা যাচ্ছে না, যার ফল কিছুটা হলেও যে ভোট বাক্স পড়বে সেইটাও অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করা হচ্ছে।

এরপরে রয়েছে ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া বিজেপি শহর মন্ডলেরনেতা অমিত সরকারের অকাল মৃত্যুর পরে দিনহাটা শহর এবং বিধানসভা এলাকা উত্তপ্ত করার ঘটনা, এবং তারপরে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক যখন সেই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে রিপোর্ট পেশ করলেন এর জেরে সাংসদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বটেই কালিমালিপ্ত কিছুটা হলেও হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।অন্যদিকে, দিনহাটায় এবার দেখা যাচ্ছে ফরওয়ার্ড ব্লকের উত্থান, করণা বিপর্যয়ের সময় নিজস্ব ক্ষমতা বলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পর দীর্ঘদিনের বামপন্থী নেতা আব্দুর রউফ এক প্রকারের মাসিহা হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য লকডাউন কালে। তারপরে দীর্ঘদিনের এই বামপন্থী নেতার দিনহাটা মহকুমার সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হওয়ার পরে , সমীকরণ ধীরে ধীরে পাল্টাতে শুরু করেছে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।

একদিকে ক্ষমতাবান দুই হেভিওয়েট প্রার্থী আর অন্যদিকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এক গ্রামীণ বামপন্থী নেতা অবশ্যই রাজনৈতিক হিংসায় জর্জরিত দিনহাটার মানুষের কাছে এক ভিন্ন রকমের যুক্তি পেশ করছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, তৃণমূল এবং বিজিপির বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীগুলোর ভোট বিশাল আকারে পড়তে পারে সংযুক্ত মোর্চার পক্ষে।সঙ্গে সঙ্গে এক জামানায় ফরওয়ার্ড ব্লকের গড় দিনহাটা মহকুমায় আগে থেকেই রয়েছে একটি বিশাল অংকের বামপন্থী ভোট যা এইবার ঘুরে ফেরত যেতে পারে বামেদের ঘরে । দিনহাটায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে তৃণমূল এবং বিজেপির প্রার্থীদের দলবদলের ইতিহাস, এবং একটি বিশাল অংশের মানুষ যে রাজনৈতিক হিংসার জেরে বিধ্বস্ত সেইটা অবশ্যই বোঝার জন্য কোনো সমীক্ষার দরকার নেই।