সঠিক মর্যাদা পাওয়া যায়নি, অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দিল কোচবিহার জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়

ইউবিজি নিউজ, কোচবিহার : “২০১১ সাল থেকে আমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করে এসেছি, ২০২১ এ এসে সঠিক মর্যাদা পেলাম না। আগামী ১৪ তারিখ সাধারণ সভা করে আমরা কোন পথে চলব, তা ঠিক করব।” – ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরেই কুচবিহার নতুন মসজিদ সভা কক্ষে নিজেদের মধ্যে ১ বৈঠক করে এমন কথাই জানালেন কোচবিহার জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। তাদের প্রধান দাবি, এতদিন যে দলের সঙ্গে তারা কাজ করে এসেছেন সেই দল ২০২১ এ তাদের সঙ্গে বঞ্চনা করেছে। তাদের সঠিক মর্যাদা দাওনি।

কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে দলের সবরকম দায়িত্ব সামলে আসা সংখ্যালঘু নেতা আবদুল জলিল আহমেদ এর প্রার্থী পথের দাবী ছিল কোচবিহারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। মূলত সেই দাবি পূরণ করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কার্যত বেসুরো এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তারা।

বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরাসরি মীর মহিউদ্দিন মন্তব্য করে বলেন, নির্বাচনের সময় আমরাই লাঠি ধরে নির্বাচন করি, আমরাই নিজেদের জীবনের বাজি রাখে নির্বাচন করি, আমরাই সন্তান-সন্ততিদের কথা না ভেবে রাস্তায় নেমে কাজ করি,আইনি জটিলতার মধ্যে সবথেকে বেশি মামলা আমাদের গাড়ি পড়ে। তারপরেও আজ আমরা বঞ্চিত।কোচবিহারের নয়টি বিধানসভা আসনের চিত্র একটি প্রার্থীপদ অবশ্যই উচিত ছিল। সেই দিকে কর্ণপাত করেননি শাসক দল।

বৈঠকের একাধিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এমন মন্তব্যও উঠে আসে, আমরা যদি ভোট না দেই তাহলে জিতবে না তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা।আমরা যেমন তাদের জেতাতে পারি আমরা হারাতে পারি। এই কথাটা প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে অন্ততপক্ষে ভেবে দেখা উচিত ছিল।

এইসব এরপরেও সাংবাদিকদের মুখোমুখি আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, কোচবিহার জেলায় ৩২ শতাংশের বেশি ভোট হয়েছে সংখ্যালঘু। ২৭ শতাংশ ভোট রয়েছে রাজবংশী সম্প্রদায়ের। সুতরাং সংখ্যালঘু ভোট কোচবিহার জেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি বড় ফ্যাক্টর। বিগত বছরগুলোতে আমাদের সম্পূর্ণ সমর্থন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিল।কিন্তু চলতি বছর এই অবমাননা এবং বঞ্চনা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে কোচবিহার জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। তাই আগামী ১৪ তারিখ বৃহৎ আকারে আমরা আলোচনায় বসতে চলেছি।

এরমধ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো এবং কোচবিহারের পর্যবেক্ষক সুব্রত বক্সীর তরফ থেকে কোন নির্দেশ আসে কিনা সেটাও দেখব। আমরা ৭ দিনে সময়সীমা চেয়ে নিচ্ছি আমাদের নিজেদের অবস্থান মানুষের সামনে প্রকাশ করার জন্য। কারণ জেলার সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা আমাদের সিদ্ধান্তের প্রতি চোখ দিয়ে বসে আছে।

নির্বাচনের আগে থেকেই এক এক করে সংখ্যালঘু নেতৃত্বদের সরানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। শেষমেষ কোচবিহারে একটি ও সংখ্যালঘু প্রার্থী না থাকায় অভিযোগে সঠিক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে এই কথা অনস্বীকার্য জেলায় সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক এতদিন তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছিল,কিছুটা হলেও চিন্তা বাড়াচ্ছে শাসক শিবিরে। তবে জলিল বাবু পরিষ্কারভাবে বলেন, আমরা দল পরিবর্তন করবো না, দলে থেকেই লড়াই চালিয়ে যাব নিজেদের মর্যাদার পুনরুদ্ধারের জন্য।