মালতিপুরে বেহাল রাস্তা প্রতিবাদে ধানের চারা লাগিয়ে ও মাছ ছেড়ে বিক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা,মালদা: রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মালদা জেলার মালতিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চিলা পাড়া এলাকার বাসিন্দারা রাস্তায় মাছের পোনা ছেড়ে ও ধানের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভে সরব হন। চিলা পাড়া থেকে সাকর কলা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা বেহাল অবস্থায় পরে রয়েছে।

প্রতিদিনই ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে ওই রাস্তায়। দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছর ধরে রাস্তা বেহাল থাকার কারণে চিলা পাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা সংস্কারের জোরালো দাবি তুলেছেন। রাস্তা বেহাল হওয়ায় বর্ষার শুরুতেই চলাচল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এক হাঁটু কাদা ভেঙে পারাপার করতে হয় স্থানীয়দের। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ,চিলা পাড়া থেকে সাকর কলা পর্যন্ত রাস্তাটি স্বাধীনতার পর থেকেই বেহাল অবস্থায় পরে রয়েছে। মূলত ২০ টি গ্রামর কয়েক হাজার মানুষকে নিত্যদিন ওই বেহাল রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। লালগঞ্জ,পরানী নগর, মহকুমা, বত্রিশ কলা, মির্জাতপুর ও পাঠানপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রয়েছে এই রাস্তার।

স্থানীয়বাসিন্দা সফিজুদ্দিন, মাজেদা বেওয়া, শকুরা বিবি ও জাহাঙ্গীর আলিরা জানান রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসন কর্তাদের বহুবার জানানো হয়েছে।ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা এই রাস্তা মেরামতের আশ্বাস দিলেও তাতে কোনও রকম কাজ হয়নি। বর্তমানে রাস্তার হাল এতটাই খারাপ যে, কোথাও হাঁটু সমান জল, কোথাও আবার বৃষ্টির জমা জল বইছে রাস্তার উপর দিয়ে। রাস্তার উপরে জল জমে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শুরু হয়েছে মশা-মাছির উপদ্রব।আর এভাবেই বছরের পর বছর খানাখন্দে ভরা কর্দমাক্ত এই পথ দিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন আট থেকে আশি সকলেই।তারা আরো জানান বাম জমানাতেও এই রাস্তার একই হাল ছিল। রাস্তার কারণে গ্রামের ছেলে মেয়েদের বিয়ে ভেঙে যায়। শিঘ্রই রাস্তাটি সংস্কার না হলে ২০২১ এর বিধান সভা ভোট বয়কট করবেন বলে জানান।

আশা কর্মী খাদিজা বেগম বলেন, রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় হয়। ২০ টি গ্রামের পড়ুয়াদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের ক্ষেত্রে একমাত্র এই রাস্তার উপর নির্ভর করতে হয়।

মালতিপুর এলাকা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে রয়েছে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল মাঝরাতে চিকিৎসা করাতে কিংবা গর্ভবতী মায়েদের এই পথ দিয়ে হাসপাতলে পৌঁছতে কার্যত নাভিশ্বাস ওঠে। রাস্তা খারাপের কারণে ছোট চার চাকার গাড়িও এই পথে আসতে চায় না। অনেক সময় রোগীদের মধ্য রাতে হাসপাতালে পৌঁছতে গিয়ে রাস্তাতেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

মালতিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আব্দুল হালিম রাস্তাটি সংস্কার করার আশ্বাস দেন।

মালতিপুর এর বিধায়ক আলবেরুনি জুলকারনাইন জানান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এই রাস্তা সংস্কার নিয়ে।রাস্তাটি যেহেতু পঞ্চায়েতের অন্তর্গত তাই প্রধানের দায়িত্বে রয়েছে। তবুও জেলা পরিষদকে জানিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করার আশ্বাস দেন।

মালদা জেলার ভারতীয় জনতা পার্টির সম্পাদক দীপঙ্কর রাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন শাসকদল মমতা ব্যানার্জি র উন্নয়ন দেখিয়ে ভোটব্যাঙ্ক করতে চেয়েছে।গ্রামগঞ্জের রাস্তা এতোটাই বেহাল দশা যে বর্ষাকাল হলেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শাসক দলকে এগুলো দেখা উচিত বলে মনে করেন।