কোচবিহারে শহীদদের পরিবারের এক শহীদের ছোট্ট শিশু কন্যাকে কোলে তুলে নিয়ে কপালে মাথা ঠেকালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মাথাভাঙাঃ এক শহীদের ছোট্ট শিশু কন্যাকে কোলে তুলে নিয়ে কপালে মাথা ঠেকালেন, আরেক শহীদের শিশুপুত্রকে কাছে টেনে নিয়ে কথা বললেন। খোঁজ নিলেন এক শহীদের গর্ভবতী স্ত্রীর। যাদের দেখে আবেগ প্রবণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন নির্দিষ্ট সময় থেকে কিছুটা বিলম্ব হলেও ঘড়ির কাটায় সকাল ১১ টা ২২ মিনিট নাগাদ মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতাল সংলগ্ন মাঠের হেলিপ্যাডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার এসে পৌছায়। সেখান থেকে নেমে সরাসরি মঞ্চের নীচে বসে থাকা শহীদ পরিবারের কাছে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে চোখের জল আটকে রাখতে পারেন নি মনিরুজ্জামানের স্ত্রী রহিলা। মুখ্যমন্ত্রীর চোখ পড়ে যায় রহিলার দিকে। কাছে ডেকে তাঁর কোলে থাকা একমাত্র সন্তান ৪৯ দিনের মরিয়মকে নিজের কোলে তুলে নেন তিনি। কিছুক্ষণ সেই ছোট্ট শিশুর দিকে তাকিয়ে তার কপালে মাথা রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তখনও পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে চোখের জল ফেলে যাচ্ছেন রহিলা।

এরপর মরিয়মকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে শহীদ হামিদুলের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা হাসিনাকে কাছে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্বাস্থ্যের খবর যাতে দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা রাখেন সে নির্দেশও দিয়ে যান তিনি। এরপর একে একে পঞ্চ শহীদের পরিবারের যে সব সদস্যরা ছিলেন, সকলেই মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন। কথা হয় আনন্দ বর্মণের দাদু ক্ষিতীশ চন্দ্র রায়ের সাথেও।

এরপর সরাসরি মঞ্চে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে সরকারে এসে সকলের পাশে থাকার আশ্বাস দেন, তেমনি পৃথক দুটি ঘটনাতেই উপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা তাঁর সরকার করবেন বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নির্বাচন বিধি থাকায় অনেক কিছুই তিনি যে বলতে পারছেন না, সেকথাও যেমন উল্লেখ করেন, তেমনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ শহীদদের স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভ গড়ে তোলার। নির্বাচনের পরে তিনি প্রথম এই শহীদের কাছেই আসবেন বলেও আশ্বাস দিয়ে যান।

এবার গণ্ডগোল এড়াতে ৮ দফায় বাংলায় ভোট করানোর সিধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। আনা হয় প্রচুর সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। যাতে গণ্ডগোল এড়ানো যায়।

নির্বাচনের প্রথম তিন দফায় ছোট ঘাট গণ্ডগোল হলেও চতুর্থ দফায় প্রথমে শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রের গোলেনাওহাটি এলাকার ৫/২৮৫ নম্বর বুথে তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষের জেরে মৃত্যু হয় আনন্দ বর্মণ নামে একজন প্রথম ভোটারের। অভিযোগ ওঠে বিজেপির সমর্থক হওয়ায় তাঁকে গুলি করে খুন করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনার কিছুটা পরেই ফের ওই বিধানসভা এলাকার জোড়পাটকিতে ৫/১২৬ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় গোটা রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে উঠেছিল।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীদের দাবি, পাল্টা দাবি, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, হুমকি পাল্টা হুমকির জেরে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সম্প্রদায়গত বিভেদ ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছিল।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন মাথাভাঙার পঞ্চ শহীদ স্মরণ সভা থেকে সেই ভেদাভেদ মেটাতেই হয়ত বলেছেন, “আনন্দ বর্মণ, রাজবংশী যুবক সেও আমার আপন ভাই। অন্য চার শহীদ তাঁরাও রাজবংশী, যাঁদের নশ্যসেখ বলা হয়ে থাকে। তাঁরাও আমার আপন। এখানে হিন্দু মুসলিম বলে শহীদদের ভেদাভেদ করা ঠিক নয়।”