আবেদন করেও কোচবিহারে মিললো না স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, স্বামীর চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে আর্থিক সাহায্যের আর্জি গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধানের

ইউবিজি নিউজ ব্যুরো : প্রায় তিন মাস আগে স্বামীর ব্রেন স্ট্রোক করেছে। চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে আর্থিক সাহায্যের আর্জি গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধানের।

জানা যায়, গত কয়েক মাস আগে শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অর্পিতা বর্মনের স্বামী কৃষ্ণচন্দ্র বর্মন ব্রেন স্টোক করে শয্যাশায়ী হয়। চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকার খরচ হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন কৃষ্ণ বাবু। তিনি অসুস্থ হওয়ায় আর্থিকভাবে অনটনে ভুগছে তাঁর পরিবার।

স্বামীর চিকিৎসার জন্য বিক্রি করে দিয়েছেন বড়মরিচা বাজারের দোকান ঘরটিও। জমি জমা বেশী নাই। তবে প্রথম অবস্থায় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করায় চিকিৎসা হয়েছিল। বর্তমানে আবারো স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান।চিকিৎসক খুব শীঘ্রই অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

অপারেশন করতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা কিভাবে জোগাড় করবেন। তাই বাধ্য হয়েই সহযোগিতার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান নিজেই ছুটে বেড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এখনো স্বাস্থ্য সাথী কার্ড হাতে পাননি। বিভিন্ন মহলে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। দিদিকে বলো নম্বরে ফোন করেও সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ গ্রাম পঞ্চায়েত উপ-প্রধানের। তাই স্বামীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছেন।

শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অর্পিতা বর্মন জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত অ্যালকোহল নেওয়ার ফলে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ে। বন্ধুরাও পরে আর খোঁজ নেয়নি। সংসারের একমাত্র রোজগেরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তাই স্বামীর চিকিৎসা করার সামর্থ নেই। কোন সহৃদয় ব্যক্তি সহযোগিতা করলে কৃতজ্ঞ থাকবেন তিনি এবং প্রশাসনে দ্রুত স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বানিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

এ বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আনোয়ারা বিবি বলেন, আমরা দলীয় ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। আবারো যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা চালাচ্ছি। শীতলকুচির বিডিও শুভ্র দাস বলেন, আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি। আমার কাছে আসলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।