তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামীর বাড়িতে বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক, জল্পনা তুঙ্গে

ইউবিজি নিউজ, কোচবিহার, ২৯ অক্টোবরঃ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কোচবিহার দক্ষিন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী।

এরপর থেকেই কানাঘুষো চলছিল তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী বিজেপিতে যাচ্ছেন।

এরপর বৃহস্পতিবার কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক মিহিরবাবুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে একান্তে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার পর সেই জল্পনা আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল। যদিও বৈঠকের পর সাংসদ ও বিধায়ক দু’জনেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এটা নিতান্তই সৌজন্য সাক্ষাৎ। এর পেছনে কোনও রাজনীতি নেই।

পূজার পর বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে প্রথম তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়কেও মিহির বাবুর বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়। এরপর মিহির বাবুর মান ভাঙাতে পার্থ প্রতিম রায়ের ওই সাক্ষাৎ বলে জেলার রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। কিন্তু মিহির বাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে আসা মানেই ছেড়ে আসা শিবিরে ফেরা নয়। আর সেদিন থেকে নতুন জল্পনা, মিহির গোস্বামীর মান ভাঙ্গানোর চেষ্টায় বিফল তৃণমূল জেলা সভাপতি। এদিন খোদ বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক মিহির বাবুর বাড়ি চলে আসায় তৃণমূল শিবিরে আরও চাপ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কোচবিহারে তৃণমূলের জেলা কমিটি ও পরে ব্লক সভাপতি পদ গুলোতে নতুন মুখ নিয়ে আসার পর থেকে দলীয় গোষ্ঠী কোন্দলের রূপরেখা পাল্টাতে শুরু করে।

জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে জেলায় দলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক ক্ষুব্ধ হন। তাঁদের মধ্যে একটি বৈঠকও হয়। সেই বৈঠক থেকে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগও জানানো হয়। কিন্তু তাতে রাজ্য নেতৃত্ব গুরুত্ব না দেওয়ার পর প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ান কোচবিহার দক্ষিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী।

এরপর তিনি কোলকাতায় যান সেখান থেকে ফিরে ফের সাংবাদিক সম্মেলন করে পিকের আই প্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। এরপর থেকেই মিহির বাবুর বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়।

এরপর এদিন খোদ বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক মিহির বাবুর বাড়ি চলে আসায় সেই জল্পনা আরও বেড়ে গেল।

এদিন সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নিশীথ প্রামানিক বলেন, “মিহির বাবু আমার দাদার মত, এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসে থাকার সময় ওনার কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছি। ওনার মত নেতৃত্ব যে দলেই থাকুন, সেই দলই উপকৃত হবে। তবে এদিনের সাক্ষাৎ শুধু মাত্র বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। এর বাইরে অন্য কোন বিষয় নেই।”

মিহির গোস্বামীও নিশীথ প্রামানিকের সুরেই বলেন, “শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন সাংসদ। একটি গণতান্ত্রিক দলের মানুষ অন্য একটি গণতান্ত্রিক দলের মানুষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে, এটাই বাংলার সংস্কৃতি।”