তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গিরিন্দ্রনাথ বর্মণের উপড়ে হামলার ঘটনায় উত্তাল কোচবিহারের মাথাভাঙা

মাথাভাঙ্গাঃ তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গিরিন্দ্রনাথ বর্মণের উপড়ে হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে মাথাভাঙা। গতকাল প্রচার শেষ করে মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের ঘোকসাডাঙ্গা থেকে ফেরার পথে শিলডাঙ্গা এলাকায় গিরিন্দ্রনাথ বর্মণের গাড়ির উপড়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় গিরিন্দ্রনাথ বর্মণ মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন। তাঁকে কার্যত রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওই ঘটনা জানার পরে রাতেই তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা মাথাভাঙা মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষভে বসে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী পার্থ প্রতিম রায় ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা নাটাবাড়ি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সেখানে তারা ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রাতে অবস্থান তুলে নিলেও ফের এদিন সকাল থেকে মাথাভাঙা পঞ্চানন মূর্তির নীচে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে গিরিন্দ্রনাথ বর্মণের মাথায় আঘাত লেগেছে। তাঁর মাথায় ১৪ টি সেলাই পড়েছে। বুকে ব্যথা রয়েছে। তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বরা জানিয়েছেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে পঞ্চানন অনুরাগীরা মাথাভাঙা শহরের খুব কাছেই পঞ্চানন মরে পঞ্চানন বর্মার মূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তাদের দাবি একজন সজ্জন ব্যক্তি , শিক্ষক, পঞ্চানন অনুরাগী, পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। তাঁকে এভাবে আক্রমণ করা কোন মতেই মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এদিন রায় সাহেব পঞ্চানন বর্মার মূর্তির পাদদেশে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ওই ঘটনার মূল পাণ্ডাদের গ্রেফতার করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিক্ষোভ অবস্থান চলবে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতেই ওই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগামী কাল কোচবিহার জেলার ৯ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। তার আগে মাথাভাঙায় এমন ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।