শীতলকুচির গুলিকান্ডের জের! আগামিকাল শীতলকুচি যাচ্ছে সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল

কলকাতা, ১৬ মেঃ গুলিকাণ্ডের পুনর্নির্মাণ করতে আগামিকাল শীতলকুচি যাচ্ছে সিআইডি-র বিশেষ তদন্তকারী দল। নেতৃত্বে থাকবেন ডিআইজি সিআইডি। জানা গিয়েছে, মাথাভাঙা থানার অফিসার ইনচার্জ ও শীতলকুচি-কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার যে বয়ান দিয়েছেন, সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করবেন আধিকারিকরা।

তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের পরই শীতলকুচি কাণ্ডের তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু দিন আগেই ডিআইজি সিআইডি কল্যাণ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সিট গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ দল সোমবার শীতলকুচি যাচ্ছে। সিআইডি সূত্রে খবর, ডিআইজি সিআইডি-র নেতৃত্বে এই বিশেষ দল জোরপাটকির যে বুথে গুলি চলেছিল, সেখানে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবে। তা ছাড়া স্থানীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য যাচাই করা হবে।

চতুর্থ দফার ভোটের দিন গত ১০ এপ্রিল, শীতলকুচির জোরপাটকি গ্রামের ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা রাজ্য। বুথ সংলগ্ন এলাকায় গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল চারজনের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতেই গ্রামবাসীদের প্রাণ গিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে৷ পরে নির্বাচন কমিশনও তা স্বীকার করে নেয়৷ ঘটনার পরপরই সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। সেই মতো তদন্ত প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সিআইডি। পুলিশ আধিকারিকদেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৬ জওয়ানকে তলব করে সিআইডি। সূত্রের খবর, ভোটের দিন ওই ৬ জওয়ান ভোটকেন্দ্র ও সংলগ্ন জায়গায় উপস্থিত ছিলেন। তার ভিত্তিতেই তাঁদের তলব করা হয়। আগামী ২৫শে মে থেকে ২ জুনের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই জওয়ানদের আলাদাভাবে তলব করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার কোচবিহারে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যপাল৷ সেখানে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকজন তাঁকে ঘিরে কালো পতাকা দেখায়। দেওয়া হয় গো-ব্যাক স্লোগান। এরপরই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ধনকড় বলেছিলেন, মানুষ এই রাজ্যে পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়। তাঁদের চোখে পুলিশের জন্য ভয় দেখা গিয়েছে। বাড়ি ঘর লুঠ করা হচ্ছে, এটা কোন গণতন্ত্রের পরিবেশ।